গান লেখাই ছিল তাঁর জীবন। ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যে করেছিলেন এমএ। অন্যদের মতো সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বাবার ইচ্ছেমতো বিলেতেও যাননি ব্যারিস্টারি পড়তে। তিনি গানের সঙ্গে মিতালী পেতেছিলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, শুধু গান লিখেই তিনি থামতেন না, গানে সুর দিতেন, মহড়া করতেন, এমনকি রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু এই সবকিছুই পেশাদারি মনোভাব থেকে নয়, একেবারে হৃদয়ের গরজে।
অসংখ্য কালোত্তীর্ণ গান আছে তাঁর। ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন’, ‘কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো’, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো’, ‘জীবন খাতার প্রতি পাতায়’, ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে’, ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই আকাশ তো বড়’, ‘আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো’, ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’, ‘এই রাত তোমার আমার’, ‘প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে’, ‘পৃথিবী বদলে গেছে’—এ রকম অসংখ্য গান দিয়ে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বেঁচে থাকবেন সংগীতজগতে। সংগীতে বেঁচে থাকার জন্য আর কিছু দরকার ছিল না তাঁর, কিন্তু তিনি অমরত্বের জন্য বেছে নিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, তখন তিনি কি আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন? স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অনুরোধ এসেছে গান লেখার, এই অনুরোধ ফেরানো যায় না।
ভারতের গড়িয়ায় একটি চায়ের দোকানের আড্ডায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূল বিষয়। এ আড্ডায় বসেই একটি সিগারেটের প্যাকেটের সাদা অংশে তিনি লিখেছিলেন, ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি...’। গানটিতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছিলেন লোকসংগীত শিল্পী অংশুমান রায়। ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার মুসলমান,’ ‘মাগো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে’গানগুলো তাঁরই লেখা।
সূত্র: ব্রিজেশ দাশ, টিচার্স টেন্ট