হোম > ছাপা সংস্করণ

ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ময়মনসিংহে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেনি ৭৭টি চালকল। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। যে চালকলগুলো চুক্তি করেছে, তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এদিকে কৃষকেরা বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে ধান বিক্রি করছেন না।

জানা গেছে, জেলার ১৩ উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদাম রয়েছে ১৮টি। জেলায় হাসকিং মিল ৩২৪টি এবং অটো রাইস মিল ৭৮টি। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমে ২৫২টি হাসকিং ও ৭৪টি অটো রাইস মিল চুক্তি করেছে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সেদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন। কিন্তু খাদ্য বিভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি করতে পেরেছে ২৯ হাজার ৭২৯ দশমিক ২৩০ মেট্রিক টন চালের। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৭ টাকা ও চালের ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ক্রয়ের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৭ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার পরিপত্র জারি করা হলেও চাল কেনা হয় তালিকাভুক্ত চালকলগুলো থেকে। কিন্তু চার মৌসুম ধরে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় এবং চাল উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ক্ষতির মুখে সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে চালকলগুলো।

আর সরকারি গুদামে একটি নির্দিষ্ট আর্দ্রতার ধান কেনা হয়। পাশাপাশি গুদামে ধান বিক্রিতে কৃষককে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই ধান বেশি দামে স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারায় খাদ্য বিভাগের কাছে যাচ্ছে না কৃষক। ফলে ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে কয়েক মৌসুম ধরেই।

খাদ্য বিভাগ গত বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানে সফলতা এলেও ব্যর্থ হয় ধান সংগ্রহে। তখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ। ওই মৌসুমে ৩৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয় ৭ হাজার ৫১৫ টন।

সদর উপজেলার বোরোরচর গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ১০০ টাকা মণে তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারছেন। আর সরকার কিনছেন ৯৫০ টাকা ধরে। বোরোরচর থেকে খাদ্যগুদামে এক মণ ধান নিয়ে যেতে খরচ পড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অনেক সময় আর্দ্রতা কমের কারণে ধান ফেরতও নিয়ে আসতে হয়। সুতরাং এত ঝামেলার চেয়ে স্থানীয় বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যে ধান বিক্রি করা যায়।

বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ২৮৮ মেট্রিক টন চাল সরকারি গুদামে দেওয়ার জন্য তাঁদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী ৫০ কেজি চালের বস্তা বাবদ ১২০ টাকা, ৩০ কেজি চালের বস্তা বাবদ ৮০ টাকা এবং বরাদ্দকৃত চাল বাবদ ২ শতাংশ টাকা সিকিউরিটি হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘কিন্তু বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় নতুন চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। মোটা ধান প্রায় ১ হাজার টাকা মণে কিনতে হচ্ছে আমাদের। প্রসেসিং খরচ রয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ১ মণ ধানে চাল হয় ২২ থেকে ২৩ কেজি। এ হিসেবে উৎপাদন খরচ হয় ৪৪-৪৬ টাকা। ’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, যেসব মিল চুক্তি করেছে, তাদের কাছ থেকে দ্রুত চাল সংগ্রহ করা হবে। তাদের চাল দিতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় অনেক মিল চুক্তি করেনি। বাজারে ধানের দাম কৃষকেরা ভালো পাওয়ায় ধান কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ