সূর্যের চোখ রাঙানিতে গতকাল যেন পুড়ছিল সিলেট। এই তপ্ত রোদেই বাংলাদেশ নারী দলের ঘাম ঝরানো প্রস্তুতি আর সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানান দিয়েছে, দারুণ কিছুর সাক্ষী হতে যাচ্ছে সবুজে মোড়ানো সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও পার্শ্ববর্তী আউটার গ্রাউন্ড।
আসলে কোলাহলমুক্ত সিলেট নগরী যে কারও মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শ দুয়েক টাকা খরচ করে স্টেডিয়ামে এলে নামীদামি রিসোর্টই মনে হবে।
এখানেই আজ থেকে শুরু নারী এশিয়া কাপ। প্রথমবার মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে সিলেট। দুটি ভেন্যুতে হবে ২৪ ম্যাচ। বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতা অবশ্য আগেও হয়েছে চায়ের শহরের। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ছয়টি ম্যাচ হয়েছিল এখানে। তবে এবার পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় সিলেটবাসীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উন্মাদনা।
রাত পোহালেই ম্যাচ। তাই সব প্রস্তুতি অনেক আগেই সেরে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মিডিয়া কর্মকর্তা ফরহাদ কোরেশী বলেছেন, ‘মাঠ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। অন্য ছোট ছোট যেসব কাজ ছিল, সেগুলোও শেষ। আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে সিলেটে এশিয়া কাপ হবে।’ দুই ভেন্যুরই কিউরেটর ও মাঠকর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করে সাজিয়ে তুলেছেন চা বাগানের কুলে গড়ে ওঠা মাঠ আর ২২ গজকে। সিলেটের ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এশিয়া কাপে রান উৎসব হবে।
বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ সিলেটবাসীর উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইছেন না ক্রিকেট অনুরাগীরা। স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমী জীবন আনোয়ার আজকের পত্রিকাকে বললেন, ‘আমাদের শহরে প্রথমবার এত বড় আসর হচ্ছে। বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ আমাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ জন্য আমরা বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ আরেক সমর্থক হাসান সায়েম বললেন, ‘কয়েক দিন আগে আমাদের মেয়েরা ফুটবলে সাফ জয় করে ফিরেছে। আমরা চাই সালমা-জ্যোতিরা আমাদের সাক্ষী রেখে এশিয়া জয় করুক। দর্শক হিসেবে আমরা ওদের পাশে আছি।’