গঙ্গাচড়ায় পরিত্যক্ত ভাঙারি পণ্যের ব্যবসা করে দিনবদলের দেখা পেয়েছেন যুবক নুরুন্নবী। তিনি উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের ছোট রুপাই গ্রামের একরামুল হকের ছেলে।
নুরুন্নবী গজঘণ্টা বাজারের পশ্চিম পাশে চারমাথা বটতলায় দোকান দিয়ে ভাঙারির ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, প্রায় এক যুগ ধরে তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে পরিত্যক্ত ও পুরোনো জিনিস কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছেন। পুরোনো সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কাচ ও প্লাস্টিকের বোতল, খাতা, বই, খবরের কাগজ, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল-জুতা, কাগজের কার্টুন-ব্যাগ, লোহার রড, তামার তার, টিন, সিলভার, ব্যাটারি, সার্কিট প্রভৃতি।
হকার বা ফেরিওয়ালারা সারা দিন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে নগদ টাকা কিংবা বিভিন্ন পণ্যের বিনিময়ে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করেন। দিন শেষে তাঁরা এগুলো এনে নুরুন্নবীর কাছে বিক্রি করেন। তিনি এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে পণ্যগুলো জমা করে পিকআপ ভ্যানে বোঝাই করে রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার প্লাস্টিক ও কাগজ তৈরির কারখানাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারখানায় পৌঁছে দেন।
প্রতি ভ্যান সামগ্রীতে যাবতীয় খরচের পরও নুরুন্নবীর লাভ হয় ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিছু সামগ্রী এক পিকআপ সংগ্রহ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়।
নুরুন্নবী বলেন, ‘আমার আর্থিক অবস্থা আগে খুবই খারাপ ছিল। তখন পুঁজিও খুব সামান্য ছিল। এসব সামগ্রী কিনে রংপুর শহরের বিভিন্ন মহাজনের কাছে বিক্রি করতাম। মহাজনেরা আবার বিভিন্ন কোম্পানি বা কারখানায় বিক্রি করতেন। তখন তেমন একটা লাভ হতো না।
বর্তমানে নুরুন্নবীর ব্যবসায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার পুঁজি রয়েছে। এ থেকে মাসিক নিট লাভ হচ্ছে ৫০ হাজার টাকার বেশি। বর্তমানে তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার বেশ ভালোভাবেই চলছে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা গ্রামের স্কুলে লেখাপড়া করে। ছোট মেয়ে এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি।
নুরুন্নবী জানান, ব্যবসা এভাবে চললে ভবিষ্যতে মালামাল পরিবহনের জন্য একটিপিকআপ ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।