উচ্চমাধ্যমিক পাস শাহিরুল ইসলাম শিকদার (৪৮)। বেসরকারি একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান, শুটিং ক্লাবের সদস্য—এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতেন তিনি। এরপর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বড় পদধারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তোলা তাঁর ছবিও অফিসের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতেন। গত ২৩ অক্টোবর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই প্রতারক। প্রতারণার শিকার জাকির হোসেন (৪৫) আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর পর দেশে এসে পোলট্রির ব্যবসা শুরু করি। দুই সন্তানসহ চারজনের ছোট পরিবারে ভালোই ছিলাম। হঠাৎ মামাশ্বশুর নান্নু মিয়ার মাধ্যমে শাহিরুলের সঙ্গে পরিচয়। এর মধ্যে সে মানবাধিকার চেয়ারম্যান ও শুটিং ক্লাবের সদস্য বলে পরিচয় দিত। এমনকি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ছবি তুলে বাঁধাই করে অফিসে টাঙিয়ে রাখত। এসব দেখে আমি তাঁকে সন্দেহ করিনি।’
জাকির জানান, একদিন শাহিরুল তাঁকে ডেকে নিয়ে এলাকার কিছু লোককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। পরে কয়েকজনকে পাঠালে তাঁদের চাকরিও দিয়ে দেয় সে। পরে পাঁচ মাস পর তাঁদের কারোরই আর বেতন হয় না। জাকির বলেন, ‘একপর্যায়ে ২০১৮ সালের দিকে আমি রামপুরা থানায় একটি জিডি করি। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, স্থায়ী চাকরির কথা বললেও আমার এলাকার লোকদের সে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। ৯ জনের কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ টাকা নিয়েছে শাহিরুল। সেই ৯ জনের সবাই ৫-৭ মাসের মধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন।’
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, রামপুরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।