ধুলোবালি জমা ব্যানারে লেখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখা যায় পুরো বারান্দাজুড়েই কার্টনে ভরা মালামাল। কার্যালয়ের ফটকে ঝুলছে তালা। যেখানে ইলিয়াস হেয়ার কাটার অ্যান্ড সেলুনের সাইনবোর্ড। উঁকি মেরে দেখা যায়, ভেতরেও সারি সারি কার্টন। লোকজনের আনাগোনা নেই। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয়টি বর্তমানে একরকমের গুদামঘরে পরিণত হয়েছে।
গত বুধবার পুরান ঢাকার নয়াবাজারের নবাব ইউসুফ মার্কেটের দোতলায় সরেজমিনের খবর এটি। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই জায়গাটি প্রায় ৪০ বছর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। মিছিল, মিটিং, শোভাযাত্রাসহ সব ধরনের কর্মসূচিতে সরগরম থাকত পুরো এলাকা। পরে সেটি অবিভক্ত ঢাকার মহানগর কার্যালয় হয়। বর্তমানে যা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রধান কার্যালয়। এটির সামনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের ছবির একাধিক ব্যানার রয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন নয়াবাজারের কার্যালয়টি ছিল তাদের সব ধরনের কর্মসূচি ও কাজের কেন্দ্রবিন্দু। কার্যালয়ের আশপাশের সব এলাকাই ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের দখলে। পরে আওয়ামী লীগ আসলে সব বদলে যায়।
জানতে চাইলে বিএনপির বংশাল থানার সভাপতি তাইজদ্দিন আহমেদ তাজু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির প্রধান কার্যালয়টি ১৯৮১ সালের দিকে বিএনপির প্রধান কার্যালয় ছিল। পরে নয়াপল্টনে নতুন অফিস হলে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রধান কার্যালয় হয়।’
বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এটি ব্যবসায়ীদের এলাকা। তা ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়টি বন্ধ। তাই হয়তো স্থানীয় কয়েকজন মালামাল রেখেছে। আমরাও নিষেধ করিনি। তবে গত শনিবার মহানগর ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মিসভা এখানেই হয়েছে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘এখানে সভা ডাকলেই পুলিশ বাধা দিচ্ছে। নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। তাই আমরা যেতে পারি না।’
অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ‘যেকোনো সভা-সমাবেশ করার আগে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন ছাড়া সমাবেশ করলে তবেই আমরা আইনি ব্যবস্থা নিই।’