ঢাকার দোহার উপজেলার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল ড্রেজিংয়ের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের নারিশা পশ্চিমচর থেকে মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলী বাজার পর্যন্ত এ খালটির অবস্থান।
প্রায় ত্রিশ বছর আগেও উপজেলার জনগণ ঢাকা যাতায়াতের জন্য এই নদী পথটি ব্যবহার করতেন। সে সময় নদী পথই ছিল ঢাকা যাওয়ার জন্য একমাত্র পথ। এই খালটি নারিশা পশ্চিমচর লঞ্চঘাট নামে পরিচিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এই খালটি দীর্ঘ দিন ড্রেজিং না করায় পলি মাটি পরে বন্ধ হয়ে আছে। আর এই সুযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্রি করছেন ওই খালের মাটি সঙ্গে করছেন চাষাবাদও।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ধুলু কবিরাজ বলেন, ‘২৫-৩০ বছর আগে এ লঞ্চঘাট দিয়ে আমরা ঢাকা যাতায়াত করতাম। সরকারের কাছে দাবি, এই খালটি কেটে আমাদের নৌপথে চলাচলের ব্যবস্থা করে করে দেওয়া হোক। এতে আমাদের যাতায়াত, ফসল আনা-নেওয়া ও সেচের সুবিধা হবে।’ খালের মাটি কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের একটু মাটি দরকার তাঁরা এ খাল থেকে মাটি কেটে নিয়ে বাড়ি ভরছে। তবে সরকারি খাল কাটার আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল।’
এ বিষয়ে ওই স্থানের আরেক বাসিন্দা মুসলেম বয়াতি জানান, যারা খাল কাটছে তাঁরা নিজেদের জমির জায়গা থেকেই মাটি কাটছে।’
মাটি কাটার লোকদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, তাঁরা রোজ হিসেবে মাটি কাটেন। তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। ভুলু মোড়ল নামে স্থানীয় একজন তাঁদের বলেছেন, তাঁর নিজের জায়গার মাটি কাটতে হবে, সে জন্য তাঁরা এখানে মাটি কাটতে এসেছেন।
মাটি ক্রেতা মো. রুবেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটা যার তিনি একজনের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন। আমি আবার তাঁর কাছে থেকে কিনেছি। আমি এ পর্যন্ত ৯৫ গাড়ি মাটি কিনে নিয়েছি এখান থেকে।’
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ জানান, যারা সরকারি খাল দখল করেছেন ও সেখান থেকে মাটি কাটছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খাল কাটার আগে অনুমতি নেওয়া লাগে। এ বিষয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।