মৃত্যু পরম সত্য। জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর বাস্তবতা অনিবার্যভাবে জড়িয়ে আছে। তাই জীবমাত্রের মৃত্যু সুনিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘প্রতিটি প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। এরপর তোমাদের আমার কাছে ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭)
রাত-দিন ও আলো-আঁধারের এই পৃথিবীর মেয়াদ শেষ করে সবাইকে পাড়ি জমাতে হবে পরপারে। এড়িয়ে যাওয়ার এক বিন্দু অবকাশও থাকবে না। তবু দুনিয়ার মোহে উদাসীন মানুষ মৃত্যুর কথা ভুলে যায়। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘দুটি জিনিসকে আদমসন্তান অপছন্দ করে। মৃত্যুকে অপছন্দ করে, অথচ মৃত্যু তার জন্য ফিতনায় পতিত হওয়া থেকে উত্তম। সম্পদ কম হওয়াকে অপছন্দ করে, অথচ (কেয়ামতের দিন) কম সম্পদের হিসাব সহজ হয়।’ (মুসনাদে আহমদ)
দুনিয়ার চাকচিক্য ও প্রাচুর্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ আল্লাহর অবাধ্যতায় জড়িয়ে পড়ে। পাপে-পাপে হৃদয়পট কলুষিত হয়ে যায়। সেই কালিমালিপ্ত হৃদয় পুনরায় ইমানের আলোয় সতেজ ও প্রদীপ্ত করতে রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষের হৃদয়ে জং ধরে, যেভাবে লোহায় জং ধরে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তা দূর করার উপায় কী?’ তিনি এরশাদ করেন, ‘মৃত্যুর স্মরণ ও কোরআন তিলাওয়াত।’ (শুয়াবুল ইমান)
মহানবী (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘তোমরা দুনিয়ার স্বাদ-সুখ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি করে স্মরণ করো।’ (তিরমিজি) অন্য হাদিসে এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ কামনা করেন, মৃত্যুর আগে তাকে মধু পান করান।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘মধু পান করানোর অর্থ কী?’ তিনি বললেন, ‘তার জন্য নেক আমলের পথ সুগম করে দেন। একপর্যায়ে (বান্দার নেক আমলের কারণে) তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)
লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক