কুমিল্লায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছে পাঁচ হাজার উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী। এ নিয়ে দুই দিনে সাড়ে আট হাজার পরীক্ষার্থী টিকা পেল। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়। এর আগে গত বুধবার নগরীর তিনটি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়।
কুমিল্লা নগরী ও সদরের ১৪টি কলেজের শিক্ষার্থীরা সকালে এবং বিকেলে আরও ১২টি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হয়। সকাল থেকেই কলেজ মাঠে ভিড় করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। টিকা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই টিকাদান কর্মসূচি ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কলেজটির ১ হাজার ২৬৫ জন, কুমিল্লা সরকারি কলেজের ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী, সরকারি মহিলা কলেজের ১ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী টিকা নেয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ১৫৬টি কলেজের পরীক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ১০টি বুথের মাধ্যমে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনপত্র দেখে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের এই তথ্য সুরক্ষা অ্যাপলিকেশনে নিবন্ধন করা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আপাতত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তীতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউনুছ ফারুকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার নগরী ও সদর উপজেলার ২৬টি কলেজের পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিন বুধবার নগরীর তিনটি কলেজের ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। যারা বাদ পড়েছে তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’