জাপানি নারী নাকানো এরিকো বাংলাদেশি ইমরান শরীফের সঙ্গে থাকতে সম্মত হয়েছেন। মান-অভিমান ভুলে ইমরান শরীফসহ দুই সন্তানকে জাপানে নিয়ে যেতে চান তিনি। দুই মেয়ের কথা চিন্তা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চকে জানান তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানিতে শিশির মনির বলেন, জাপানি নারী পেশায় একজন চিকিৎসক।
অনেক দিন হলো তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। জাপানে তাঁর চাকরির সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর ছোট মেয়ে সেখানে থেকে কান্নাকাটি করছে মায়ের জন্য। তাই তিনি সবাইকে নিয়ে জাপানে ফিরে যেতে চান। আর এ জন্য ডিভোর্স দেননি এখনো। তিনি বলেন, মাতৃত্বের জন্য তাঁকে আর কত পরীক্ষা দিতে হবে? জাপানি আদালতের আদেশেও মায়ের কাছে মেয়েদের রাখতে বলা হয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশি নাগরিক ইমরান শরীফের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ আদালতকে বলেন, ‘কারও কথা শোনার দরকার নেই। দুই শিশুর কথা শোনেন। অথবা সমঝোতার জন্য সময় দিন। আমরা চেষ্টা করে দেখি।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘আপনারা স্বামী–স্ত্রীকে নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীরা বসেন। তবে সেখানে সন্তানদের রাখার প্রয়োজন নেই।’ এরপর আদালত আগামীকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আর এ দুই দিন আগের নিয়মেই থাকবেন তাঁরা।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর জাপানি শিশুদের নিয়ে বাবা-মাকে সমঝোতার বিষয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদকে মুরব্বির ভূমিকা পালন করতে বলেছিলেন। আদালত বলেছিলেন, শিশুদের নিয়ে সুন্দর সমাধান হলে তাদের ভবিষ্যৎও ভালো হয়, দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়। এতে দেশ-বিদেশ সবার জন্য ভালো হবে।