তালেবালী নামের এক ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে গেছেন ভোট দিতে। ব্যালট পেপার দেওয়ার আগে পোলিং অফিসার তাঁর হাতে অমোচনীয় কালি লাগালেন। এ সময় তালেবালী অফিসারকে জিজ্ঞেস করলেন:
-স্যার, এই কালি কি সাবান দিলে উঠে যাবে?
-না।
-তাহলে শ্যাম্পুতে তো যাবে?
-না! তাতেও যাবে না। এটা সহজে মোছার নয়!
এবার তালেবালী আরও একটু নরম গলায় জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে এই কালির দাগ কবে যাবে, স্যার?’
এমন প্রশ্নের পর প্রশ্নে বিরক্ত পোলিং অফিসার এবার বললেন, ‘আগামী ভোট পর্যন্ত থাকবে এটা। এতে চলবে?’
তালেবালী এবার খুশিতে পোলিং অফিসারের হাত জড়িয়ে ধরলেন, ‘স্যার, দয়া করে আমারে এই কালি এক শিশি দেবার ব্যবস্থা করেন। নইলে কোন কোম্পানির কালি তার নামটা বলেন, প্লিজ!’
-পাগল নাকি! এই কালি দিয়ে করবেনটা কী আপনি?
-স্যার, যত দামি কলপই দিই না কেন, চুলে ১৫ দিনের বেশি থাকে না। তাই এইবার এই কালিই লাগাব চুলে...পাঁচ বছরের জন্য নিশ্চিন্ত...।
খ. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোলবালিশ আর হারিকেন মার্কায় সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা, যাকে বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দুই মার্কার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কোলবালিশের প্রার্থী শহরে থাকেন, ব্যবসায়ী মানুষ, নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় এসেছেন। তবে হারিকেনওয়ালা এলাকায়ই থাকেন, ঝানু পলিটিশিয়ান। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় এক টেবিলে আড্ডা দিচ্ছেন দুই দোস্ত।
কোলবালিশ: বুঝলি দোস্ত। যত কায়দাই করিস তুই, আমার সঙ্গে জিততে পারবি না!
হারিকেন: কেন কেন?!
কোলবালিশ: কারণ আমার কর্মীদল। তারা যখন রিকশায় ওঠে, তখন রিকশাঅলার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, ভালো-মন্দ খোঁজখবর নেয়। রিকশা থেকে নামার সময় ২০ টাকা করে বকশিশও দেয়। এ সময় হাতে হাত মিলিয়ে রিকশাওয়ালাকে বলে, ‘ভাই সাহেব, ভোটটা কিন্তু কোলবালিশেই দিয়েন!’
হারিকেন: বলিস কী! আর কী কী করছে তোর কর্মীরা?
কোলবালিশ: আরও আছে, হাটে-বাজারে সব জায়গায় লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে, দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে জিনিস কিনছে। বিদায়ের সময়ে বলছে, ভাই, ভোটটা কিন্তু...জানিস তো, সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারলেই নির্বাচনে...
হারিকন: কিন্তু দোস্ত, আফসোস, এতসবের পরেও তুই জিততে পারবি না। এত টাকাপয়সা ঢেলেও তুই নিশ্চিত হারবি। কষ্টই লাগছে ব্যাপারটা ভেবে।
কোলবালিশ: এরপরও হারব! কেন কেন?
হারিকেন: কারণ, আমার লোকেরা এক মাস ধরে রিকশায় উঠেই ড্রাইভারকে গালিগালাজ শুরু করে।
কোলবালিশ: কী আশ্চর্য! কেন এমন করছে তারা?
হারিকেন: সেটাই তো বলছি। আগে পুরোটা শোন। আমার কর্মীরা রিকশা থেকে নামার সময় ভাড়া অর্ধেক দেয়। আর যতক্ষণ রিকশায় থাকে ততক্ষণ শুধু কোলবালিশের গুণগান গায়।
কোলবালিশ: বলিস কী? কী সাংঘাতিক কুটিল চিন্তা তোর! তুই মানুষ না...
হারিকেন: এত তাড়াতাড়িই চিনলি আমারে। কাহিনি আরও আছে, দোস্ত! এক মাস ধরে এই এলাকায় আমার দুই শ লোক ধরা খাইছে পুলিশের হাতে।
কোলবালিশ: কী দোষ করেছে তারা!
হারিকেন: ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা বিক্রির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় প্রত্যেকে পুলিশকে বলেছে যে তারা সব কোলবালিশের কর্মী-সমর্থক। স্থানীয় পত্রিকাগুলোয় ছাপা হয়েছে সেসব খবর...
কোলবালিশ: হায় হায়! এটা কী শুনছি আমি...আমার ইমেজ তো শেষ! আমরা না ছোটবেলার বন্ধু! তারপরও তুই...
হারিকেন: এর নাম রাজনীতি দোস্ত। রাজনীতির মাঠে খেলতে নেমে ফাউল গেম না খেললে জেতা যায় না! সব ভুইলা যা, দোস্ত! এখন হাতে হারিকেন নেওয়ার জন্য তৈরি হ।