চৌদ্দগ্রামের নানকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত রোববার সকাল ১০টায় বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান ফাগুন অর্ক, উমামা হারুন মারিয়া ও উম্মে সারিকা আজাদ অ্যাপ্রোন পরে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপছে। তারপর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করাচ্ছে।
জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ১১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘খুদে চিকিৎসকের’ দল। তারা প্রতিদিন থার্মোমিটার দিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপে। পরে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায়। তাঁরা স্যানিটাইজার ব্যবহার, মাস্ক পরা ও কিছুক্ষণ পরপর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কাজটি তদারকি করে।
সরকার ২০১১ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘খুদে চিকিৎসকের’ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে নানকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে চৌদ্দগ্রামের অন্য ১৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘খুদে চিকিৎসকের’ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকিনা বেগম। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়েই চালু রয়েছে। হয়তো এটা আপনাদের চোখে পড়েনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘খুদে চিকিৎসকেরা’ অন্য শিক্ষার্থীদের সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, বিভিন্ন বার্তা, বিভিন্ন অনুশীলনে সহায়তা ও তদারকি করে। একজন শিক্ষক নিয়মিত এর তত্ত্বাবধান করেন।
কথা হয় নানকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ‘খুদে চিকিৎসকদের’ টিমপ্রধান আমির হোসেনের সঙ্গে। সে বলে, বর্তমানে করোনা মহামারি চলছে। নানকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে চিকিৎসক টিমটি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া, শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা, শতভাগ শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করছে।
ইউএনও এস এম মঞ্জুরুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নানকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘খুদে চিকিৎসক’ দলের কাজটি সত্যি প্রশংসনীয়। আমি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ কার্যক্রমটি সব বিদ্যালয়ে চালু করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’