হোম > ছাপা সংস্করণ

বাস থেকে ফেলে হত্যা: বিচার হবে না?

সম্পাদকীয়

বাসের চালক ও তাঁদের সহকারীদের বেপরোয়া আচরণ কোনোভাবেই কি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না? আমাদের দেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকেরা। না, ঢালাওভাবেসব চালক কিংবা হেলপার বা চালকের সহকারীকে অপবাদ দেওয়া ঠিক নয়। ভালো চালক ও সদাচারী হেলপার অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাঁদের সংখ্যা কম। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর এখন আর কাউকে ব্যথিত করে না।

তবে এসব দুর্ঘটনার বেশির ভাগ সংঘটিত হয় চালকের অসাবধানতা অথবা বেপরোয়া হয়ে গাড়ি চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারায়। তাই বাস দুর্ঘটনায় যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁরা মূলত হত্যাকাণ্ডের শিকার বলেই এখন মনে করা হয়। কিন্তু এ রকম একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হওয়ার নজির নেই। বিচার না হওয়া এবং পরিবহনশ্রমিকদের সংগঠিত ইউনিয়নবাজির কারণে দিন দিন বিষয়টি সীমা লঙ্ঘনের পর্যায়ে চলে গেছে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা। রোববারের আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর থেকে জানা যায়, বাসচালকের সহকারী এক যাত্রীর কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেন। এ সময় আবু সায়েম নামের আরেক যাত্রী এর প্রতিবাদ করেন।

এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সরণিতে নামার সময় সায়েমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বাসচালকের সহকারী। নিচে পড়ে গেলে ওই বাসের পেছনের চাকা সায়েমের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু সায়েম ঢাকার মতিঝিলে একটি পোশাক কারখানার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন সায়েম। প্রতিদিনের মতো কাজ সেরে বাসে করে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি।

এ ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটে চলাচলকারী ৮ নম্বর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বাসচালক শাহ আলম ও তাঁর সহকারী মোহনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় লোকজন।

যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল আলম বলেছেন, এ ঘটনা হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তদন্তে বেরিয়ে আসবে আসলে কী ঘটেছিল।

কথা-কাটাকাটির জেরে যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে এক যাত্রীকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকার ওয়ারীর জয়কালী মন্দিরের সামনে এক যাত্রীকে এবং জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার কারণে এক যাত্রীকে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে। কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচার না হওয়ায় একটির পর একটি অঘটন ঘটে চলছে। এর অবসান হতে হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ