কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার হাটগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশুর সরবরাহ। তবে হাটে ক্রেতার আনাগোনা এখনো কম। ফলে জমে ওঠেনি কেনাবেচা। বিক্রেতারা আশা করছেন, আগামীকাল শুক্রবার থেকে হাট জমবে রাজধানীতে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বাঁধা আছে গরু। উট, দুম্বা, মহিষ ও ছাগল আছে। কিছুক্ষণ পরপর ট্রাক বোঝাই করে ঢুকছে কোরবানির পশু।
পটুয়াখালী থেকে গাবতলীর হাটে বিক্রির জন্য ১৩০টি ছাগল এনেছেন মো. জামাল। এখন পর্যন্ত মাত্র ৭টি ছাগল বিক্রি করতে পেরেছেন তিনি। জামাল বলেন, ‘ক্রেতা কম আসছে। আশা করি শুক্রবার থেকে হাট জমবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গতকাল হাটে দুটি বড় আকারের ছাগল এনেছেন বিক্রেতা আবু বকর। একটির নাম কালুরাজ ও আরেকটির নাম দিয়েছেন বাদশা। তিনি কালুরাজের দাম চান ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর বাদশার দাম চান ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু বেলা দেড়টা পর্যন্ত কেউ দরদাম করেননি ছাগল দুটির।
গত শনিবার রাত ১২টার দিকে পাবনা থেকে সাতটি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসেন ফজলু ব্যাপারী। এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি তিনি।
আমজাদ ব্যাপারী নামে একজন সপ্তাহখানেক আগে হাটে ১২৫টি গরু, ৬০টি মহিষ, ২টি উট ও ৫টি দুম্বা এনেছেন। এর মধ্যে ৩০টি গরু, ২৫টি মহিষ বিক্রি করেছেন। তবে এখনো উট ও দুম্বা বিক্রি করতে পারেননি।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে বুধবার সকাল ১০টার দিকে ‘বীর বাহাদুর’ নামে একটি গরু নিয়ে এসেছেন রাশেদ আলী। তিনি জানান, বীর বাহাদুরের ওজন দুই টন। হাটের সবচেয়ে বড় গরু দাবি করে তিনি গরুটির দাম চান ২৫ লাখ টাকা।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে হাটে কথা হয় খিলগাঁও থেকে যাওয়া মশিউজ্জামান মিন্টু ও মমতাজ বেগম দম্পতির সঙ্গে। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গরুর দাম বেশি থাকে। এখানে একটু কম পাওয়া যেতে পারে। তাই এখানে আসা। আমাদের হিসাবে মিলে গেলে আজকেই গরু কেনার ইচ্ছে আছে।’
এদিকে প্রায় ক্রেতাশূন্য রাজধানীর কদমতলী থানার শ্যামপুর বালুর মাঠে বসা কোরবানির পশুর হাট। এই হাটে কোরবানির পশু রাখার অধিকাংশ জায়গা এখনো রয়েছে ফাঁকা।
মানিকগঞ্জ থেকে ১৭টি গরু নিয়ে মঙ্গলবার হাটটিতে আসেন ব্যাপারী সোহেল রানা। তিনি এবারই এই হাটে প্রথম আসেন। তাঁর আনা আকর্ষণীয় গরুটির নাম ‘লাল বীর বাহাদুর’। হাটের প্রবেশমুখে ১ নম্বর কাউন্টারের পাশেই রাখা হয়েছে গরুটি। এটি দেখতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন এবং সেলফি তুলছেন।
সোহেল রানা জানান, গরুটিতে মাংস হবে প্রায় ১৮ মণ। এর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এক ক্রেতা সাড়ে ৪ লাখ টাকা দাম দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।মেহেরপুর থেকে সোমবার হাটে ছোট-বড় ৩২টি গরু নিয়ে এসেছেন টোকন ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘ছোট গরুর কিছু ক্রেতা আসছিল। কিন্তু উপযুক্ত দাম না বলায় বিক্রি করতে পারছি না। দেখা যাক, এখনো সময় আছে।’
এখানে গরু কিনতে আসেন ব্যাংক কর্মকর্তা আসাদ। তিনি বলেন, ‘ঈদের আরও কয়েক দিন বাকি আছে। তবু আগেই এলাম। যদি দামে মিলে যায়, তাহলে গরু নিয়ে যাব।’ তবে এবার গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে বলে জানান আসাদ।