হারিয়ে যাওয়ার দুই বছর পর আপন নীড়ে ফিরেছেন মহানন্দ দাস। এক পুলিশ কর্মকর্তার মহানুভবতায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে পেয়ে আনন্দে অশ্রুসিক্ত পরিবারের সদস্যরা। মানসিক প্রতিবন্ধী মহানন্দ দাস নামের ওই যুবক নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ছোট রাউতা দাসপাড়া গ্রামের দীনেশ দাসের ছেলে। গত শুক্রবার রাতে রাজবাড়ীর কালুখালী থানা থেকে মহানন্দকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুই বছর মাঠে-ঘাটে ঘোরার পরে অবশেষে আপন নীড়ে ফিরেছেন মহানন্দ।
মহানন্দকে উদ্ধার করেন রাজবাড়ীর কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন চন্দ্র সরকার। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত একটার দিকে ডিউটি করার সময় কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া মোড় এলাকায় গিয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন একটি ছেলেকে ঘিরে রেখেছে। স্থানীয়দের কাছে তাঁর গতিবিধি কিছুটা সন্দেহজনক মনে হলে ছেলেটিকে কালুখালী থানায় নিয়ে আসে। ক্ষুধার্ত থাকায় থানায় তাঁর খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সঙ্গে শীতের একটি গরম কাপড়ও দেওয়া হয়।
এসআই রুপন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ছেলেটিকে বাড়ি যাওয়ার কথা বললে কীভাবে যাবে তা সে জানে না। বাড়ির কোনো ফোন নম্বরও সে বলতে পারে না। ছেলেটির কাছ থেকে অস্পষ্টভাবে পাওয়া ঠিকানার সূত্র ধরে ইন্টারনেট থেকে ওই এলাকার ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর খুঁজে পাই। ইউপি সদস্য ফোন করে মহানন্দ দাসের কথা বললে তিনি তাঁকে চিনতে পারেন এবং জানান ছেলেটি দুই বছর আগে হারিয়ে গেছে। পরিবারের লোকেরা অনেক খুঁজেও তাঁকে পায়নি।’
এদিকে এ ঘটনার পরে ওই রাতেই দুইটার দিকে ভিডিও কলে মহানন্দকে তার বাবা-মাকে দেখান ওই ইউপি সদস্য। মহানন্দকে দেখেই তাঁর বাবা-মা কেঁদে ফেলেন। শুক্রবার নীলফামারী থেকে মহানন্দর বাবা দীনেশ দাস, স্থানীয় ইউপি সদস্য কালুখালী থানায় এলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এসআই রুপন বলেন, ‘মহানন্দের পরিবারটি হতদরিদ্র। নীলফামারী থেকে কালুখালী আসার ভাড়া তাদের ছিল না। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তাঁরা কালুখালী আসে। দুই বছর আগে মহানন্দ হারিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। মহানন্দকে পেয়ে পরিবার খুবই খুশি। এটাই আমার আত্মতৃপ্তি।’