সামনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। মূল পরীক্ষার পাশাপাশি আছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। তা ছাড়া, যারা নবম-দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছ, তোমাদের নিয়মিত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে যেতে হয়। চলো আজ আমরা জানব, ল্যাবের সতর্কতা নিয়ে।
ল্যাবে যাওয়ার আগে
ল্যাবে যাওয়ার আগে অবশ্যই ল্যাব কোট বা অ্যাপ্রোন পরে নেবে। কাভার শু (কেডসজাতীয়) পরে ল্যাবে যাওয়া ভালো। কেননা, এতে কোনো রি-এজেন্ট তোমার পায়ে ভুলবশত পড়লেও ত্বকে লাগবে না। মেয়েদের যতটা সম্ভব চুল ছোট করে বেঁধে নিতে হবে। হাতে অলংকার থাকলে খুলে অ্যাপ্রোনের পকেটে রাখতে পারো। কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় নিয়ে ল্যাবে প্রবেশ না করাই উত্তম। প্রয়োজনীয় ল্যাব ম্যানুয়াল, খাতা, পেনসিল, কলম, রাবার, স্কেল সঙ্গে রাখতে হবে।
ল্যাবে যে বিষয়ে সতর্ক থাকবে
- ল্যাবের অ্যাপার্টাস বা কাচের যন্ত্রাংশ যেমন: বিকার, টেস্টটিউব, কনিক্যাল ফ্লাস্ক ইত্যাদি পরীক্ষণ শুরুর আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
- রি-এজেন্টগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে পরিমাণমত নিতে হবে।
- অ্যাসিডিক রি-এজেন্ট কিংবা অণুজীব নিয়ে কাজ করার সময় অবশ্যই হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করবে।
- অণুজীব নিয়ে পরীক্ষণগুলো করার পর অবশ্যই হাত স্যানিটাইজ করে নিতে হবে।
- ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত রি-এজেন্ট যাতে কোনোভাবেই চোখ কিংবা ত্বকের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
- প্রতিটি যন্ত্রাংশ ব্যবহারের আগে চার্ট দেখে ব্যবহারবিধি জেনে নিতে হবে।
- দাহ্য রাসায়নিকের ক্ষেত্রে ফিউম হুড ব্যবহার করতে হবে।
ল্যাবরেটরি ত্যাগের আগে
- পরীক্ষণ শেষে বর্জ্যগুলো নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলতে হবে।
- সব অ্যাপার্টাস বা যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করতে হবে।
- ভালোভাবে হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নিতে হবে।
আরও কিছু সতর্কতা
- অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবহার জেনে রাখা ভালো।
- যদি কখনো হাতে কোনো রি-এজেন্ট পড়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে ল্যাব অফিসার ও শিক্ষককে অবহিত করবে।
- জরুরি প্রয়োজনের জন্য মেডিকেল সেন্টারের ফোন নম্বর ল্যাবরেটরিতে প্রদর্শিত থাকবে।
- দাহ্য তরল পদার্থ দিয়ে কাজ করার সময় সিন্থেটিক ফাইবারের তৈরি কাপড় পরা উচিত নয়। কারণ, এ ধরনের কাপড় গলে যেতে পারে কিংবা রাসায়নিক পদার্থ ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে।
- ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষণ করার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।