হোম > ছাপা সংস্করণ

হায়রে চবি!

সম্পাদকীয়

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এ যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নিজেদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ায়  চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

রোববার আজকের পত্রিকায় ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই মানছে না সিন্ডিকেট’ শিরোনামে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া পদের অতিরিক্ত ১৩ জন প্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। তবে ওই সিদ্ধান্তের পর সিন্ডিকেটের পরবর্তী বৈঠকে বাতিল ১৩ জনসহ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া পদের অতিরিক্ত ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রশ্ন হলো, বাতিল হওয়াসহ পদের অতিরিক্ত ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কীভাবে নিল? তবে ইউজিসি বলছে, এ ধরনের নিয়োগের কোনো নিয়ম নেই। সিন্ডিকেটের সাবেক একাধিক সদস্যও এই নিয়োগকে অবৈধ বলছেন। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ ঘটনা ক্রমাগতই ঘটে চলেছে।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান অবসরের ঠিক আগের রাতে ১৩৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে তুমুল আলোচনায় আসেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিজের মেয়ে এবং জামাতাকে শিক্ষক বানাতে একটি নতুন বিভাগই খুলেছিলেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা দেশব্যাপী তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ইউজিসির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না, সেটা অবশ্য গুরুতর চিন্তার বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয়কে মনে করা হয় সৎ ও আলোকিত মানুষ তৈরির সর্বোচ্চ স্থান। জ্ঞান-বিজ্ঞানে যাঁরা অগ্রসর তাঁদেরই তো হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার পথ দেখাবেন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কী হচ্ছে? দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষার মানের ক্রম অবনতি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি চাই না, গুণে-মানেও এগিয়ে থাকতে চাই। অথচ আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আর বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পায় না।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এবং শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষকদের মেধা, গবেষণা, যোগ্যতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনার বিষয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি লক্ষ করা যায়। উপাচার্যদের বিরুদ্ধে যখন স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং এ জন্য তাঁদের অব্যাহতি দিতে হয়, তখন তাঁরা নিজেরা লজ্জাবোধ না করলেও দেশের মানুষ ঠিকই লজ্জা পায়। তাই উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য বিবেচনা অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ