হোম > ছাপা সংস্করণ

‘বেতন চাইলেই নির্যাতন বাড়িয়ে দিত মালিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

এক ছেলে, চার মেয়ে আর স্বামী নিয়ে সুখের সংসার নাজমা বেগম (৩৮)। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক স্বামী দুলাল মিয়া পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম। ভালোই চলছিল তাঁদের সংসার। হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান। ছোট ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে পরবাসে গিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন নাজমা। সঙ্গে সঙ্গেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এক প্রতিবেশী শিপন, যিনি ঢাকায় থাকতেন। নিজের টাকা দিয়েই নাজমার পাসপোর্ট করে দেন। আল-আরাফা ট্র্যাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মী হিসেবে নাজমা চলে যান সৌদি আরবে। এরপর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে ফিরে আসেন দেশে।

ভুক্তভোগী নাজমা নিজের দুর্দশার কথা জানিয়েছেন আজকের পত্রিকাকে। তিনি বলেন, ‘সংসারের হাল ধরতেই আমি সৌদি যাই। বেতন ধরা হয় এক হাজার রিয়াল, যা বাংলাদেশের হিসাবে ২২ হাজার ৯১০ টাকা। কিন্তু কাজ শুরু করার পর বুঝতে পারি সৌদি মালিক ভালো ছিল না। নিজের বাসায় তো ইচ্ছামতো খাটাতই। পাশাপাশি এখানে-ওখানে আত্মীয়ের বাসায় কাজের জন্য পাঠাত। ঠিকমতো খাবার দিত না। পান থেকে নুন খসলেই চলত শারীরিক নির্যাতন। বেতন চাইলে এর মাত্রা আরও বাড়াত ওই মালিক।’

নাজমা জানান, গত দেড় মাস ধরে সৌদি আরবের একটি অফিসে তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল। তারপর তাঁকে একটি আরব পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই পরিবার তাঁকে বিভিন্ন সময় মারধর করা ছাড়াও বৈদ্যুতিক শকসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো

ভুক্তভোগী এই নারী আরও বলেন, ‘শেষে গিয়ে একবার বলে, ছয় মাসের বেতন একবারে দেওয়া হবে। এমনকি আমার চার বছরের ছেলে টাকার অভাবে না খেয়ে থাকে বলেও জানাই তাকে। এরপর পাঁচ মাস চাকরি করে ৭০০ রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৬ হাজার ৩৭ টাকা পাই। ওই টাকা নিয়েও কোনোমতে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা করি। পরে দাম্মামের এক এজেন্টের জমি বন্দক রেখে টাকা জোগাড় করে দেয় আমার স্বামী। এরপর র‍্যাব-৪-এর সহযোগিতায় আরও তিন ভুক্তভোগীর সঙ্গে গত বুধবার দেশে ফিরে আসি।’

এর আগে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তেজগাঁওয়ে আয়াত ওভারসিসের অফিসে অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪। ওই দিনই পাচার হওয়া আরেক ভুক্তভোগী নাজমা আক্তারকে (৩০) সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই নারীই নাজমা বেগমসহ তিন নারীর আটকে থাকার কথা জানান।

নাজমা র‍্যাবকে জানান, সৌদি আরবের দাম্মামে এক এজেন্টের কাছে নাজমা বেগম, দীপ্তি আক্তার ও রোকসানা আক্তার আটকে আছেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ