ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে মাদারীপুর জেলায় এ বছর আবাদ করা হয়েছে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-১৪ জাতের একটি উন্নত জাতের সরিষা। মাঠের পর মাঠ এখন সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে। খরচ কম ও রোগ বালাই না হওয়ায় এ বছর মাদারীপুর জেলায় ১৩ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।
জাওয়াদ পরবর্তী অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার এবং উচ্চ ফলনশীল বীজ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করায় সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার আশা করেছেন মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
মাদারীপুর কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি কৃষকেরা উন্নত জাতের বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৮, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯, টরি-৭ ও রাইসহ বিভিন্ন জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। এখন সরিষা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার ২০ হাজার কৃষককে বিনা মূল্যে সার, বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এতে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা বারি সরিষা-১৪ চাষাবাদ শুরু করেন। সরিষা ঘরে তোলার পরই বোরো ধানের আবাদ শুরু করতে পারবেন। একই জমিতে তিন ফসল ঘরে তুলতে পেরে লাভবান হবেন তাঁরা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামের আবুল সরদার জানান, ৫ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ করেছেন। বিঘায় তার খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিঘায় ১২ থেকে ১৩ মণ সরিষা হবে বলে আশা করছেন তিনি।
চাছার গ্রামের রোকন মাতুব্ববের ৫ বিঘা জমিতে ভালো সরিষা হওয়ায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন।
কৃষকেরা জানিয়েছেন এবারের সরিষায় রোগ-বালাই ও পোকামাকড় না থাকায় জমিতে ভালো সরিষা হয়েছে। বাজারে সরিষার দামও ভালো। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে সরিষা আবাদের কথা ভাবছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘মাদারীপুর জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর। জাওয়াদের কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা প্রণোদনা দিয়েছি। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের সরিষা আবাদের জমির পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৮ হেক্টর। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হয়েছে। এখন সরিষার বাজারে দামও ভালো, সরিষার তেলের দামও ভালো। ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে সরিষার ফলন ভালো হবে এবং চাষিরা লাভবান হবেন।’
তিনি আরও জানান, মাদারীপুর জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬৮ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৫৬ হেক্টর জমির সরিষা।