বর্তমান বিশ্বে ধর্মান্ধতা একটি আলোচিত পরিভাষা। ধর্ম আমাদের মুক্তি দিতে পারে, তবে ধর্মান্ধতা আমাদের দেশ ও সমাজ নষ্ট করে। এর কুফল সুদূরপ্রসারী। ধর্মান্ধতা শব্দের অর্থ ধর্মের প্রতি অন্ধ অনুসরণ। পরিভাষায়—ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবনে তার যুগোপযোগী ব্যবহার না জেনে নিজের স্বল্পজ্ঞান অনুযায়ী গোঁড়ামি করে ধর্মচর্চা করাই ধর্মান্ধতা।
উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, ইসলামের প্রথম যুগে যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে এক আহত যোদ্ধার গোসল ফরজ হয়। তার গোসল করতে হবে কিনা জিজ্ঞাসা করলে সঙ্গীরা তাকে আবশ্যিকভাবে গোসল করতে বলে। তিনি গোসল করলে তার রোগ বাড়ে এবং তিনি মারা যান। এ ঘটনা শুনে মহানবী (সা.) খুবই রাগান্বিত হন এবং তার সঙ্গীদের তিরস্কার করে বলেন, ‘তোমরা না জানলে আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করোনি? তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তায়াম্মুম আছে।’ (আবু দাউদ) এখানে সঙ্গীদের স্বল্প জ্ঞান অনুযায়ী গোঁড়ামি প্রকাশের কারণে একজনের জীবন চলে গেল। তাই ধর্ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে এবং না জানলে জেনে নিতে হবে।
প্রতিটি কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা ইসলামের নির্দেশ। ইসলাম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করা অথবা কোনো বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করাও ধর্মান্ধতার শামিল। আল্লাহ বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। নিশ্চয় ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।’ (সুরা বাকারা: ২৫৬)
ইসলাম ধর্মান্ধ হয়ে কাজ করতে নিষেধ করেছে। কারণ এর মাধ্যমে কেউ কেউ ইসলামকে সংকীর্ণ করেছে। মহানবী (স.) বলেন, ‘ইতিপূর্বে অনেক জাতি এ কারণে ধ্বংস হয়েছে।’ তাই দৈনন্দিন জীবনে ধর্মান্ধতা নয়, বরং উদার মানসিকতা পোষণ করে ধর্মচর্চা করাই প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।
ড. এ এন এম মাসউদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়