রাজশাহী চিনিকলে আখ সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় আখচাষিরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে গুড় তৈরি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পাওয়ার ক্রাশারে মাড়াই নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটাও পারছেন না। ফলে এই এলাকার জনপ্রিয় ফসল আখ এবার কৃষকের মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরজুড়ে আবাদ করার পর একসঙ্গে বিশাল অঙ্কের টাকার জোগান দেওয়া ফসল আখ এবার জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্প কারখানা রাজশাহী চিনিকল। চিনিকলের চারঘাট সাবজোনের ১৩টি ইউনিটের আওতায় ৭টি আখ ক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এই সাবজোন এলাকায় ১ হাজার ৫৮৯ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু রবি মৌসুম শুরু হলেও এখনো আখ সংগ্রহ শুরু হয়নি।
উপজেলার রাওথা এলাকার কৃষক জয়নাল হোসেন বলেন, ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আখের চাষ করেছেন তিনি। সার, কীটনাশক সব বাকিতে নেওয়া। জমির আখগুলো সময়মতো চিনিকলে দিতে পারলে কিংবা মাড়াই করতে পারলে আখের সঙ্গে মসুরসহ অন্য আবাদ করতে পারতেন। কিন্তু আখের কোনো ব্যবস্থা করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই করতে যান। সে সময় প্রশাসনের লোকেরা এসে মেশিন জব্দ করে নিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় জমিতে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে আখ।
জাতীয় কৃষি সমিতি চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি হায়দার আলী জানান, আখ চাষ করে কৃষকেরা মহাবিপদে পড়েছেন। তাঁরা না পারছেন চিনিকলে দিতে, না পারছেন নিজেরা মাড়াই করতে। রবি মৌসুম শুরু হলেও কৃষকেরা জমি ফাঁকা পাচ্ছে না। আবার মৌসুমের শেষের দিকে চিনিকল আখ নিলেও টাকা পেতে ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় উপজেলার কৃষকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে রাজশাহী চিনিকলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের সমস্যা সমাধানে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তবু কৃষকেরা প্রতিকার পাচ্ছেন না।
চারঘাট সাবজোন প্রধান ও রাজশাহী চিনিকলের উপসহকারী আখ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আখের উৎপাদন অনেক কম। আখ বীজের সংকট হতে পারে এ জন্য চিনিকলে আখ সংগ্রহ এখনো শুরু হয়নি। তবে আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে আখ সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর আখের মূল্য কৃষকেরা দ্রুত সময়ে পাবেন। তবু নানা জটিলতার কারণে অনেক সময় টাকা পেতে দেরি হয়।
রাজশাহী চিনিকলের সহ-সমন্বয় কর্মকর্তা সাদেক আলী বলেন, রাজশাহী চিনিকলে প্রতিদিন আখমাড়াই ক্ষমতা ১৫ থেকে ১৬ শ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী প্রতিটি সাবজোনের আখ সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে আখ সংগ্রহ শুরুর সময় এগিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর চিনিকল চালু হবে। এবার আখের মূল্য কৃষকেরা সময়মতো পাবেন।