শুটিং থেকে বাসায় পৌঁছে দিতেন
সুচন্দা, অভিনেত্রী
আমি যখন নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ সিনেমায় অভিনয় করি, তখন তিনি ছিলেন সহকারী পরিচালক। তখন থেকেই আমাদের চমৎকার সম্পর্ক। সুন্দর মনের মানুষ তো বটেই, তিনি ছিলেন একজন রসিক মানুষ। সবাইকে হাসাতে পারতেন। আমাদের বাড়ি যখন গেন্ডারিয়ায়, তখন তিনিও সেখানে থাকতেন। আমাদের বাড়িতে আসতেন, আড্ডা দিতেন। আমাকে কখনো কখনো শুটিংস্পট থেকে বাসায় পৌঁছেও দিতেন। আস্তে আস্তে আমাদের পুরো পরিবারের সঙ্গে এ টি এম ভাইয়ের সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমার পরিচালনায় ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমায় তাঁকে অভিনেতা হিসেবে পেয়েছি। ওই শুটিংয়ে তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। করোনার সময় তো খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগে আমরা তিন বোন তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা সারা জীবন ছায়ার মতো থাকেন, তিনি ছিলেন আমাদের তিন বোনের কাছে তেমনই একজন।
মীর সাব্বির, অভিনেতা
এ টি এম শামসুজ্জামান একটি ইতিহাস। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল, আমার পরিচালনায় তাঁকে নিয়ে কাজ করার। সেটা ছিল ‘নোয়াশাল’ নাটকে। তিনি আমাকে সব সময় বলতেন, ‘সাব্বির, তুমি সিনেমা বানাও’। তিনি প্রায়ই তাঁর বাসায় আমাকে ডাকতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা হতো। আমার পরিচালিত সিনেমার খোঁজ নেওয়ার জন্য মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে তাঁর বাসায় ডেকেছিলেন। আমি, আহসানুল হক মিনু ও দেবাশীষ দে মিঠুন গিয়েছিলাম। কখন যে আড্ডা মারতে মারতে সময় পার করে দিয়েছিলাম, নিজেরাও টের পাইনি। সেটাই শেষ দেখা। আর কোনো দিন দেখা হবে না। কিন্তু যে দোয়া উনি করেছেন, সেটা যত দিন বেঁচে থাকব ভুলতে পারব না। আমার ‘রাত জাগা ফুল’ সিনেমাটি যখন অনুদান পায় তখন স্ক্রিপ্ট পড়ে ভীষণ প্রশংসা করেছিলেন এই গুণী অভিনেতা। সিনেমাটি মুক্তির সময় তিনি আমার পাশে থাকলে আরও অনেক বেশি শক্তি পেতাম, সাহস পেতাম। তবে আমার বিশ্বাস, তিনি এখনো আমার মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছেন।