মনিরামপুরের খাটুরা মধুপুর কায়েমকোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শহীদ মিনার অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনার দুটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিদ্যালয়টির বিভিন্ন ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি বিরোধ দিবস পালন করা হয়। ফলাফল প্রকাশ ও দুর্নীতি বিরোধ দিবসের কর্মসূচি পালনের সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ১৫ জন জুতা পায়ে প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে ওঠেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজয়ের মাসে এ ধরনের কাজের মাধ্যমে শহীদদের চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক একেএম বজলুর রশিদ বলেন, ‘এটি স্টেজ কাম শহীদ মিনার। জাতীয় দিবসগুলোতে এবং বিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই শহীদ মিনারটিকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করি। ১৫ বছর ধরেই এমনটা চলে আসছে। অনেক শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে জায়গা দিতে না পারায় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করেছি। জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠাকে আমি তেমন কিছু মনে করি না।’
হরিহরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে এ অঞ্চলের শহীদ মিনারগুলোকে ‘স্টেজ কাম শহীদ মিনার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শহীদ মিনারে কোনো অনুষ্ঠান করা হলে স্তম্ভগুলো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
তবে গতকালের ঘটনার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কথার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। গতকাল শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে অবস্থান করার সময় স্তম্ভগুলো উন্মুক্ত ছিল।
মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘শহীদ মিনারকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষকেরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে ঠিক করেননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।