গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জায়গা দখল করতে বাড়িঘর ভাঙচুর ও এক নারীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত বিনা আক্তার (৪৫) বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিনার ভাই উজ্জ্বল ফকির বলেন, আমার দাদার মোট ২১ শতাংশ জমির পাঁচজন অংশীদার। সেই হিসেবে চাচাতো ভাই সাঈদ ফকির ৪ দশমিক ২০ শতাংশ জমির ভাগে পাবে। কিন্তু তিনি ২০১৯ সালে গোপনে আতিয়ার শেখ নামের এক ব্যক্তির কাছে পুরো জমি বিক্রি করে দেয়। পরে জায়গা পেতে আতিয়ার শেখ গোপালগঞ্জ আদালতে মামলা করে। সেই মামলা চলাকালীন আতিয়ার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর, মিরাজ, মাসুম ও মুরাদ তালুকদারসহ চারজনের কাছে পুরো জমি বিক্রি করে দেয়। পরে শনিবার সকালে জায়গা দখল করতে ডুমুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির তালুকদারের নির্দেশে জাহাঙ্গীর, তার ছেলে প্রিন্স, বাবু, মিরাজ, মাসুম তালুকদারসহ প্রায় ৪০ জন লোক আমাদের পুরোনো বাড়ি ভাঙচুর করে। তাঁরা আমার ভাই আরাফাতকে মারধর ও বোন বিনাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিনা আক্তার বলেন, ‘জায়গা দখল করতে ভাঙচুর করার সময় আমি ও আমার ভাই বাধা দিলে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেসহ অনেকে আমাদের মারধর করে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও আমাদের মারধর করায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ফল হয়নি। তাই আমরা আদালতে মামলা করব।’
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর তালুকদার দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা হচ্ছে। আমি একটু ব্যস্ত আছি। আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলব– এই বলে ফোন কেটে দেন।
তবে মারধরের নির্দেশের ব্যাপারে আনা ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেন ডুমুরিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আলম তালুকদার। তিনি বলেন, ‘এ রকম কোনো নির্দেশ আমি দিইনি। মূলত ওই সম্পত্তির চারজন মালিক সকালে জায়গা মাপামাপি করতে যায়। তখন বিনা ও তার ভাইয়েরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি।’
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তন্ময় মন্ডল বলেন, মারামারি বা ভাঙচুরের বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।