শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শব্দ দূষণের কারণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। রিকশায় মাইক বেঁধে উঁচুস্বরে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার চালানোয় এই শব্দদূষণ হচ্ছে। শব্দ দূষণের কারণে রোগী, স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় আছে। এলাকাবাসী শব্দ দূষণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শব্দ দূষণ রোধে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির প্রচার চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এতে কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে কানে আঙুল দিয়ে পথ চলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে মাইকিং করতে এখন আর দরকার পড়ে না ঘোষকের। ঘোষণাটি একবার রেকর্ড করে মোবাইলের মেমোরি কার্ডে নিয়ে রিকশায় মাইক বেঁধে চলতে থাকে দিনভর বিরতিহীন ঘোষণা। ঘোষণার কথার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আওয়াজের মিউজিক। যার ফলে মারাত্মকভাবে শব্দ দূষণ হচ্ছে। পৌরশহরের ব্যবসায়ী বিপ্লব দে কেটু (৫০) বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে চলে মাইকিং। দোকানে ক্রেতার সঙ্গে কথা বলাও এখন কষ্টকর।
পৌরশহরের উত্তর বাজার এলাকার গৃহিণী নিপা রাণী (২৮) বলেন, ‘মাইকের শব্দে এখন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ঘরে ৮ মাসের বাচ্চা আছে। মাইকের এমন শব্দে কান্না করে ওঠে। একেতো গাড়ির হর্নের শব্দ, আবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকিং।’
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির আহমেদ জানান, ‘অতিরিক্ত শব্দ দূষণে শিশুসহ সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এতে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি হয়। কর্মক্ষমতা কমে যায়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং কাজকর্মে মন বসে না। উপজেলা প্রশাসনের উচিত এ বিষয়টি দেখা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আগে জানা ছিল না। যেহেতু মানুষ এর দ্বারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তাই শব্দ দূষণ রোধে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।