শচীন টেন্ডুলকারের কাছে গতকাল দিনটা বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএলে অভিষেক হয়েছে তাঁর ২৩ বছর বয়সী পুত্র অর্জুন টেন্ডুলকারের। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জার্সিতে অভিষেক হওয়া অর্জুনের খেলা মাঠে বসেই দেখেছেন বাবা শচীন। ক্রিকেটে অনেক বাবা-ছেলের গল্পই আছে। এখানে তাঁদের তালিকাই করা হলো, যাঁদের বাবা খুব বেশি দিন আগে খেলা ছাড়েননি কিংবা এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন; বিখ্যাত বাবার খেলোয়াড়ি জীবনের রেশ না কাটতেই ছেলে চলে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়—
তেজনারায়ণ চন্দরপল
শিবনারায়ণ চন্দরপল আন্তর্জাতিক অবসরে যাওয়ার বেশ আগেই ছেলে তেজনারায়ণের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অভিষেক হয়ে গিয়েছিল। বাবা-ছেলে এক সঙ্গেই খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। বাবা চন্দরপল ক্রিকেট ছাড়ার পর আন্তর্জাতিক অভিষেক হলেও এরই মধ্যে আলোড়ন ফেলেছেন তেজনারায়ণ। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় বাবা-ছেলের ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড তাঁদের।
অর্জুন টেন্ডুলকার
অর্জুন যে কিংবদন্তি বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন, সেটি গত এক দশকে জানা যাচ্ছিল। বাবা টেন্ডুলকার বলেই তাঁর ওপর সংবাদমাধ্যমের আলাদা একটা নজর সব সময়ই ছিল। গতকাল বাবারই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে বড় মঞ্চে চলে এলেন অর্জুনও। কলকাতার বিপক্ষে মুম্বাইয়ের বোলিং শুরু তাঁর হাত ধরে, ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।
আজম খান
১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের উইকেটকিপার ব্যাটার মঈন খান আট বছর আগেও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। গত ছয় বছরে অবশ্য তিনি পিসিবির প্রধান নির্বাচক, পরে কোচিংয়ে জড়িয়েছেন। মঈনের ক্যারিয়ার শেষ হতেই ছেলে আজম খান চলে এসেছেন পেশাদার ক্রিকেটে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক আজমের। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলছেন আজম।
থান্ডো এনটিনি
দক্ষিণ আফ্রিকার মাখায়া এনটিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেও এখনো সুযোগ পেলেই খেলেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট। গত সেপ্টেম্বরে যেমন লেজেন্ডস ক্রিকেট খেললেন। বাবার মতো ছেলে থান্ডো এনটিনিও ফাস্ট বোলার হিসেবে শুরু করেছেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো অভিষেক না হলেও খেলেছেন ১৮ প্রথম-শ্রেণির ম্যাচ।
হাসান ইসাখিল
ছেলে ইসাখিলের সঙ্গেই খেলেছেন মোহাম্মদ নবী। ২০২২ সালে শারজায় সিবিএফএস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বুখাতির একাদশে খেলেছিলেন নবী আর হাসান ইসাখিল। আফগানিস্তান জাতীয় দলেও নিজের ছেলের সঙ্গে খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন আফগান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার নবী। নবী এখনো ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন ভালোভাবেই।