পড়াশোনা করা এবং করানোর প্রতি শেখ আবদুস সালামের আগ্রহ ছিল। নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বিলবাওচ গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন। তুখোড় বক্তা ছিলেন। তাঁর বক্তৃতা শুনতে মানুষ ভিড় করত সভায়।
বিএ পাস করেছিলেন ১৯৬০ সালে। এরপর পড়াশোনায় সাময়িক ইতি ঘটিয়ে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। কয়েকটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে মাস্টার্সে ভর্তি হন। এর আগে টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বিএড পাস করেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে। ১৯৭০ সালে তিনি এমএ প্রথম পর্ব পরীক্ষায়ও প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৭১ সালে মাস্টার্সের দ্বিতীয় পর্ব পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। তখন চলছে তীব্র গণ-আন্দোলন।
কালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ৭ মার্চের ভাষণটি তিনি নিজের টেপরেকর্ডে রেকর্ড করেছিলেন। এরপর কালিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে বাজিয়ে শুনিয়েছেন। অপারেশন সার্চলাইটের পর যে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়, তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। কিন্তু প্রতিরোধ বেশি দিন টেকেনি। পাকিস্তানিদের সঙ্গে তত দিনে যোগ দিয়েছে দালাল রাজাকাররা। তারা পাকিস্তানিদের হাতে ধরিয়ে দেয় শেখ আবদুস সালামকে। যশোর ক্যান্টনমেন্টে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি কি আওয়ামী লীগ করেন?’
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘করি। কারণ আওয়ামী লীগ কোনো বেআইনি দল নয়।’
‘৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করেছিলেন?’
‘হ্যাঁ।’
এরপর তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে পাকিস্তানিরা। তার আগে বর্বর নির্যাতনে তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা হয়।
শেখ আবদুস সালামকে নিজের কবর খুঁড়তে দেওয়া হয়। সে কবর খোঁড়ার পর সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারপর সেই কবরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৩ মে।
তিনি তখন কালিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন। এখন সেই কলেজের নাম শহীদ আবদুস সালাম মহাবিদ্যালয়।
সূত্র: গুণীজনডটওআরজিডটবিডি