আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের ফসলি জমি থেকে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ইটভাটায় এসব মাটি নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপদে পড়বে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের মানুষ। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব ফসলি জমি।
স্থানীয়রা জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের চরব্রাহ্মন্দী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেকু দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের ফসিল জমির মাটি কাটা হচ্ছে। নদীপাড় থেকে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সরিষা, মুলা, লাউ, কলাইসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ঝুঁকিতে পড়েছে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের রাস্তা ও এলাকার বসতবাড়ি। বর্ষা মৌসুম এলে নদীতে বিলীন হতে পারে পুরো এলাকা। নদের পাড় থেকে মাটি কাটা ও তা বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, আড়িয়াল খাঁ নদের কাছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখান থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চলছে। সেই মাটি সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছেন শ্রমিকেরা। পাশেই রয়েছে কয়েক শত বাড়িঘর। মাটি কাটার ফলে জমিতে বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা নদে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের নিষেধ অমান্য করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি। এতে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও হুমকিতে বসতবাড়ি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার লোকজন ভয়ে বাধা দিতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ব্যাপারী বলেন, ‘নদের পাড়ের মাটি কাটার ফলে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়িঘরও হুমকির মুখে রয়েছে। এমনিতেই এলাকাটি ভাঙনপ্রবণ। মাটি খনন চক্রের মূল হোতা পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার রাজিব খাঁ। তিনি এলাকার প্রভাবশালী।’
স্থানীয় রহিমা বেগম বলেন, ‘নদীর পানি কমতে শুরু করলেই ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারি না। মাটি কাটায় মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে নদীর পাড়ে অনেক ক্ষতি হয়।’
বাদশা নামে আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশে করে কাজ করে। না হলে কীভাবে এই অন্যায় কাজ বছরের পর বছর করে। জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ যেন, দ্রুত মাটি কাটা রোধ হয়।’
এ ব্যাপারে রাজিব খাঁ বলেন, ‘এমনিতেই নদে ভেঙে নিয়ে যাবে। তাই আমরা মাটি কাটছি। শুধু আমরা নই, আরও অনেকেই কাটছেন। এটা কোনো অন্যায় না।’ একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলছে। আমরা বিষয়টি দেখব। ফসলি জমির মাটি কাটা আইন-বহির্ভূত কাজ। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’