চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা কাজিপাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের শিশু কন্যা সাত বছরের তোহার শনিবার রাতে জ্বর আসে। সঙ্গে দেখা দেয় সর্দি-কাশি ও প্রচণ্ড শরীর ব্যথা। পরদিন সকালেই জ্বর বেড়ে ১০৪ ডিগ্রিতে দাঁড়ায়। স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে বাড়িতে চিকিৎসা চলে তার। তোহার জ্বরের দুদিনের মাথায় একই লক্ষণ নিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয় তার বড় ভাই আরহাম (৯)। এর পরপরই জ্বরে আক্রান্ত হন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম নিজেও।
শুধু এই পরিবারই নয়, মৌসুমি জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সীতাকুণ্ডের ঘরে ঘরে। প্রতিদিন পল্লি চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন আক্রান্তরা। এতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তাঁর শিশু কন্যা তোহার জ্বর গতকাল বুধবার সকাল থেকে কিছুটা কমেছে। তবে ছেলে আরহাম ও তাঁর নিজের জ্বর এখনো ১০৩ ডিগ্রি।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি রোগীই জ্বর, সর্দি-কাশি, ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। তবে যাঁদের অবস্থা একটু বেশি খারাপ তাঁদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে চানা গেছে, গত এক সপ্তাহে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে প্রায় দেড় হাজার জ্বরের রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫০ জন জ্বরে আক্রান্ত রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ ইউনুচ বলেন, বহির্বিভাগে জ্বরের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রতিদিনই অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পিসিআর পরীক্ষায় বেশির ভাগেরই ফল নেগেটিভ আসছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন জানিয়েছেন, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর মধ্যে অধিকাংশ রোগী জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীর ব্যথায় আক্রান্ত। এঁদের রোগীদের বেশির ভাগই মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও করোনার পরীক্ষা করা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’