পঞ্চগড়ে এক ভ্যানচালককে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সদরের অমরখানা ইউনিয়নের সোনারবান গ্রামের মো. সফিকুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা আকতার ববি ও মেয়ে আফসানা মিমি রিংকি। এ মামলায় সফিকুলও আসামি। তবে তিনি পলাতক।
মামলার বাদী ভ্যানচালক মো. এনামুল হক। বাড়ি সদর উপজেলার জগদল এলাকায়। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত শনিবার রাতে তাঁর ভ্যান ভাড়া নিয়ে আফরোজা আকতার ববি ওই ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজার এলাকায় যেতে বলেন। পরে ভাড়া দেওয়ার নাম করে তাঁকে কৌশলে সোনারবান গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে অবরুদ্ধ করে তাঁকে মারধর শুরু করেন ববি। এ কাজে ববির স্বামী সফিকুল ও মেয়ে রিংকি সহায়তা দেন। পরে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ভ্যানচালক এনামুল জীবন বাঁচাতে ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। পরে তাঁকে বাড়িতে ফোন করে টাকা আনার সুযোগ দেন ববি। এনামুল অপহরণের শিকার হয়েছেন, বুঝতে পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরদিন রোববার ভোরে মুক্তিপণের টাকাসহ পুলিশ অমরখানা বোর্ড বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এনামুলের ভ্যানে করে ববি মুক্তিপণের টাকা নিতে নির্ধারিত স্থানে আসেন। তখন পুলিশের হাতে আটক হন ববি।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে এনামুল বাদী হয়ে সদর থানায় ববি, তাঁর স্বামী সফিকুল ও তাঁদের মেয়ে মিমির বিরুদ্ধে অপহরণ, আটকে রেখে মারপিট এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ববির মেয়ে মিমিকে শহরের শেরে বাংলা পার্ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে মা-মেয়েকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিবারটি অনেক দিন ধরে এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ মাদক বিক্রি, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। এলাকায় সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নারীর বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া তাঁর স্বামী পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যেহেতু মামলা হয়েছে, তদন্ত করে সব বের করা হবে।