রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা দাবিয়াতলা গ্রামের মূল সড়কের একটি স্থানে গাইড ওয়াল ফেটে বেঁকে গেছে। ফলে সড়কের এক পাশের ঢালাই করা পিচের কিনার ভেঙে ভেঙে পড়ছে পুকুরে।
উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘা দাবিয়াতলা গ্রামের এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নানা রকম যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি এখন বড় যানবাহন চলাচলের উপযোগী নেই। চলছে না ট্রাক বা মালবাহী গাড়ি। ঝুঁকি নিয়ে কোনো মতে চলছে ছোট যানবাহনগুলো। আতঙ্কে সড়কটি অতিক্রম করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা।
দিঘা বাজার থেকে দাবিয়াতলা গ্রামে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। দাবিয়াতলা হয়ে এই রাস্তা পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে রাস্তাটি সংস্কার করার সময় পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণে গাফিলতি হয়েছে। গাইড ওয়াল ভেঙে যাওয়ায় রাস্তাটিই এখন ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম পিন্টু বলেন, রাস্তাটি যেভাবে ভাঙছে তাতে যেকোনো সময় লোকজনের যাতায়াতের অবস্থা আর থাকবে না। তাই শিগগিরই পুকুরের পাশে নতুন করে আবারও গাইড ওয়াল দিয়ে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি এলাকাবাসীর।
দিঘা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাম্মী আকতার বলে, কয়েক দিন হলো স্কুল খুলেছে। সড়কের ভাঙা দেখে ভয় করে। তাই তার বাবা তাকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে দিয়ে আসেন।
দিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিক্ষক বজলুর রশিদ বলেন, পুকুরের পাড়ের কাছে রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তাটিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই স্থানটি অতি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
রাস্তাটির পাশের পুকুরের মালিক স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের সময় পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়াল দেওয়া হয়েছিল তড়িঘড়ি করে। সেটির কাজের মান খারাপ হওয়ায় গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে। এখন তাই রাস্তাটিই ভেঙে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রতন ফৌজদার বলেন, বিষয়টি জানার পরে রাস্তাটি যাতে নতুন করে আর না ভাঙতে পারে, সে জন্য শ্রমিক দিয়ে পুকুর পাড়ে মাটি দেওয়া হয়েছে। বর্ষার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়াল দেওয়ার পর রাস্তাটিই ভেঙে যাচ্ছে। চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।