বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল সোমবার পাবনা জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহত মনির হোসেনকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা দুইটার দিকে শহরের গোপাল লাহিড়ীপাড়ায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শওকত মাহমুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব সাংসদ হারুনুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, চূড়ান্ত আন্দোলনের মধ্যমে সরকারের পতন হবে। পাবনা থেকেই দেশ আন্দোলন শুরু হবে। ভবিষ্যতে চূড়ান্ত আন্দোলন হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।
এ সময় রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দিন শেষ হয়ে গেছে। পালানোর পথ নাই। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে।’
বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হঠাৎ যুবদল নেতা তসলিম হাসান সুইট ও মনির আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, ‘ছুরিকাহত মনিরের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাকে আমরা প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের পুলিশের পাহারায় ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেননি।