২৫ আগস্ট ১৯৭১ একটি অন্য রকম অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন রুমী। ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য হয়ে দুটি গাড়ি হাইজ্যাক করেছিল গেরিলারা। তার একটিতে ছিলেন কাজী, বদি, স্বপন, জুয়েল, রুমী আর হাবিব। অন্য দলটিতে ছিলেন চুল্লু, মুক্তার, জিয়া, হ্যারিস।
পাকিস্তানি বাহিনীকে ভড়কে দেওয়ার জন্য ছিল সে অপারেশন। একটি রোমাঞ্চকর সফল অ্যাকশন ছিল সেটা। রুমী জুন মাসে ঢাকা ছেড়েছিলেন। মেলাঘরে পৌঁছে ট্রেনিং শেষে ঢাকায় ফিরেছিলেন আগস্ট মাসে। কিছু অ্যাকশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সে মাসেই তিনি ধরা পড়েন। চুল্লুর সঙ্গে অপারেশনের ফাঁকে ফাঁকে যখন কথা হতো, তখন রুমী মাঝে মাঝেই বলতেন, ‘চলো, আমরা দুজনে মিলে অ্যাকশন করি। চলো, রমনা থানায় একটা গ্রেনেড মেরে আসি!’
চুল্লু হেসে বলতেন, ‘তারপর এসে আমার বাসায় ঢুকবে, ওরা তো দেখবে কোথায় ঢুকেছ।’
২৯ আগস্ট ধরা পড়ার পর প্রচণ্ড নির্যাতনের পরও রুমী তাঁর সহযোগী যোদ্ধাদের কারও নাম ফাঁস করে দেননি। চুল্লুকেও যখন ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে চোখ বেঁধে ধরে আনা হলো, তখন রুমীর ওপর নির্যাতন চলছিল। বুটের লাথিসহ অসহ্য যন্ত্রণাকর নির্যাতনের মধ্যেও রুমী বলে চলেছিলেন, ‘আমি জানি না, আমি জানি না।’
চুল্লুকে সেই ঘরে ঢুকিয়ে রুমীকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তুমি একে চেনো?’
রুমী বলল, ‘না, আমি ওকে চিনি না। ওকে দেখেছি, ও আমাকে দেখেছে। হ্যালো হাই হয়েছে। কিন্তু ওর সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই।’
এরপর আবার শুরু হয়েছে নির্যাতন। রুমী আর্তনাদ করেছেন, কিন্তু একবারের জন্যও কারও নাম প্রকাশ করেননি। রুমীকে এরপর রাখা হলো চুল্লুর পাশে। রুমী বললেন, ‘কেউ কিছু বলেনি। সামাদ সব বলে দিয়েছে। সবার নাম। আলতাফ মাহমুদের নাম, তোমাদের সবার নাম।’
সেপ্টেম্বরের ৪ বা ৫ তারিখের পর রুমীর সঙ্গে আর দেখা হয়নি চুল্লুর।
সূত্র: মাসুদ সাদেক চুল্লু, শহীদ শাফী ইমাম রুমী স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১২২-১২৪