কত ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই না গেছেন রবিশঙ্কর। বড় ভাই উদয় শঙ্করের নাচের গ্রুপে তাঁর জায়গা হয়েছে ছেলেবেলাতেই। মায়ের মৃত্যুর আগে নাটকীয়ভাবে তাঁর দায়িত্ব নিয়েছেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। রবিশঙ্কর তাঁকে বাবা বলে গেছেন আজীবন। আলাউদ্দিন খাঁর কাছ থেকে তিনি পারদর্শী হয়েছেন সেতারে।
১৯৭১ সাল রবিশঙ্করের জীবনে এসেছিল একেবারে অন্য রকমভাবে। বাংলার মানুষ তখন বিপদে পড়েছে। হাজার হাজার শরণার্থী এসে জায়গা নিচ্ছে ভারতের বিভিন্ন শহরে। এ নিয়ে ভীষণ রকম বিচলিত হয়ে পড়লেন রবিশঙ্কর। বিপন্ন হাজার হাজার শিশুর জীবনে সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করলেন।
জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তখন খুব বন্ধুত্ব রবিশঙ্করের। হ্যারিসন বুঝতে পারছিলেন তোলপাড় চলছে রবিশঙ্করের হৃদয়ে। রবিশঙ্কর তাঁর মনের কথা বললেন জর্জ হ্যারিসনকে। একটা কনসার্ট হতে পারে কি না, তা নিয়ে ভাবলেন দুই বন্ধু। জর্জ হ্যারিসন তখন বিশাল তারকা। যদিও হ্যারিসন, লেনন, ম্যাকার্টনি আর রিঙ্গো স্টার আলাদা হয়ে গেছেন, তবু তাঁদের প্রত্যেকের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। বাংলার নির্যাতিত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এলেন পশ্চিমা বিশ্বের সেরা শিল্পীরা। বন্ধু রবিশঙ্করের জন্য এ ছিল জর্জ হ্যারিসনের বড় উপহার।
দুই অংশে ভাগ করা সেই অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে পারফর্ম করেছিলেন রবিশঙ্কর, আলী আকবর খাঁ আর আল্লারাখা। তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। তাঁরা পরিবেশন করেছিলেন বাংলা ধুন।
আর দ্বিতীয় অংশে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিঙ্গো স্টার, লিয়ন রাসেলকে নিয়ে মেতে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন। তারিখটি ছিল ১ আগস্ট। ৪০ হাজার দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেছিলেন সেই অনুষ্ঠান।
বহু স্মৃতি ছিল রবিশঙ্করের মনে। কিন্তু এই স্মৃতিটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারায় একধরনের তৃপ্তি পেয়েছিলেন।
সূত্র: রবিশঙ্কর, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ