গোপালগঞ্জে ৯ বছর পর ইজিবাইকচালক জাহিদুল ইসলাম বাবু হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায় দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ ও সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্বাস উদ্দীন এ রায় দেন। নিহত ইজিবাইকচালক জাহিদুল ইসলাম বাবু শহরতলির মো. নজরুল মোল্লার ছেলে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের খালিদ ফকির, একই গ্রামের শুকুর রাজ্জাক মোল্লা, নতুনচর ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের ছেলে মো. বিপুল ফকির, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর গ্রামের মো. হাসান শেখ ও নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার চাচাই গ্রামের মো. ফসিয়ার মোল্লা। তবে রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিরা পলাতক ছিল।
২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফাঁসির আসামি খালিদ ফকির তাঁর ব্যবহৃত সেলফোন থেকে ফোন করে জাহিদুল ইসলাম বাবুকে জেলা শহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন মেইন রোডে আসতে বলে। পরে আসামিরা কাশিয়ানী উপজেলার ভুলবাড়িয়া সেতুর কাছে গিয়ে জাহিদুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন নিখোঁজের পর ২ অক্টোবর ওই স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা মো. নজরুল ইসলাম খালিদ ফকির ও রাজ্জাক মোল্লাকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মো. হাসান শেখের বাড়ি থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করে।
পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ মামলায় আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ৯ বছর মামলা চলার ও শুনানির পর আদালত ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসি ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।
এ রায়ে নিহতের পরিবার ও আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মো. নজরুল মোল্লা বলেন, তাঁর ছেলেকে এই পাঁচজন হত্যা করেছে। দীর্ঘদিন পর তিনি ছেলে হত্যার বিচার পেয়েছেন। এ রায়ে তিনি ও তাঁর পরিবার খুশি।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. মোক্তার আলী বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে এ পরিবারটি ন্যায্য বিচার পেয়েছে। উচ্চ আদালতে এ রায় বহাল থাকবে এবং রায় কার্যকর হবে বলে আশা করেন তিনি।