যশোরের অভয়নগরে ১১ বছরের হালিমা খাতুন নামে একটি শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভৈরব-উত্তর জনপদের পুড়াখালী গ্রামে। ঘরে ভাত কম থাকায় বড় ভাইয়ের ওপর রাগ করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি শিশুটির বাবা আব্দুল জলিলের।
শিশুটির বাবা জলিল বিশ্বাস জানান, বুধবার সকালে মেয়েটি ভাত খায়নি। কাজে যাওয়ার সময় হালিমাকে ১০টি টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম। দোকান থেকে কিছু কিনে খেয়েছে। দুপুরে ওর ভাবির সঙ্গে পাশের বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যায় সে। গোসল সেরে বাড়ি ফিরে ভাত খাবে। এ সময় পুকুরে বেশি সময় থাকায় তার ভাই তাকে একটি চড় মারেন।
শিশুটির বাবা আরও জানান, এদিন ঘরে ভাত একটু কম ছিল। কিন্তু বাড়িতে ফিরেই ভাইকে সেই ভাত খেতে দেখে ভাইয়ের ওপর রেগে যায় হালিমা। একপর্যায়ে ভাইকে বকতে বকতে ঘরে ঢোকে সে। কিছু সময় পর তার মা বাইরে কাজ করে বাড়ি ফেরে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও হালিমা ঘর থেকে বের না হওয়ায় পরিবারের লোকদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দরজা খুলে ঘরে ঢুকে দেখেন, হালিমার মৃতদেহ ঘরের ডাবার (আড়া) সঙ্গে ঝুলছে।
জানা গেছে, জলিল বিশ্বাসের বাড়িতে কুঁড়ে ঘরটুকু ছাড়া আর কোনো জমি-জমা নেই। নিজে বৃদ্ধ বয়সেও রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তিনি। আর তাঁর স্ত্রী রেশমা বেগম গ্রামের একটি চালকলে নামমাত্র মজুরিতে কাজ করেন। ছেলেরা যখন যে কাজ পান তাই করেন। কোনো মতে দিন চলে যায় পরিবারটির।
কাঁদতে কাঁদতে জলিল বিশ্বাস বলেন, ‘ভাত কম না থাকলে হয়তো আজ আমার মেয়েটি মরতো না।’
শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। বাড়িতে ভাত কম থাকায় এবং সেখান থেকে ভাইকে ভাত খেতে দেখে অভিমান করে শিশুটি আত্মহত্যা করেছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় পাথালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক শামছুর রহমান বলেন, ‘শিশুটির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’