সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হয়েছে। ৮৩৪টি ইউপিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর সহিংসতায় মারা গেছেন অন্তত ৭ জন। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, সংঘর্ষে মারা যাওয়ার ঘটনাগুলো ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে।
ভোট গ্রহণ শেষে ইসির সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁদের মধ্যেই সংঘর্ষ বাধে। তিনি বলেন, গতকালের ভোটে অন্তত ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা। পরে এসব কেন্দ্রের ভোট নেওয়া হবে।
ইসি সচিবের দাবি, সারা দেশে কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি বলেন, যে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে সেখানকার সব জেলায় ইসি খবর নিয়েছে। ইসি জানতে পেরেছে ভোট খুব সুন্দর হয়েছে, উৎসবমুখর হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষ ঘটলে সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মোট ৮৪ জন মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু আজ (গতকাল) ছয়জন মারা গেছেন। সেটি নিঃসন্দেহে কমিশনের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেভাবে ফোর্স চেয়েছেন সেভাবে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা—সবাই অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। তাঁরা চেষ্টা করেছেন ভালো কাজ করার। সে কারণে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।
ইসি সচিব মনে করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঘরে ঘরে প্রতিযোগিতা হয়, পাড়ায় পাড়ায় প্রতিযোগিতা হয়। একটি পাড়া আরেকটি পাড়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এই প্রভাব বিস্তার করার একটি প্রতিযোগিতা নির্বাচনে থাকে। যাঁরা প্রার্থী তাঁরা কিন্তু অতি আবেগপ্রবণ হয়ে যান বিজয়ের জন্য। এসব কারণেই কিন্তু এই নির্বাচনে সহিংসতা হয়ে থাকে।
কত শতাংশ ভোট পড়েছে, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর বলেন, এ পর্যন্ত যে তথ্য তাঁরা পেয়েছেন তাতে ৬৫-৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে।