যশোর জেলা শহরে লাইসেন্সধারী ইজিবাইক ও অটোরিকশা রয়েছে ৩ হাজার ২০০টি। অথচ বৈধ ও অবৈধ মিলে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৯ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে শহরে। অর্থাৎ বৈধ যানের চেয়ে অবৈধের সংখ্যা দ্বিগুণ বেশি। আর এসব ইজিবাইক ও অটোরিকশার যত্রতত্র যাত্রী তোলায় যানজটের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে এবং রাজস্ব আহরণে আগামী নভেম্বর থেকে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, শহর যানজটমুক্ত করতে ২০১৮ সালে অবৈধ ইজিবাইক শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই সময় লাইসেন্সধারী ইজিবাইক মালিক ও চালকদের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডি (আরএফআইডি) বা স্মার্ট পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহারে কিছুদিন অবৈধ ইজিবাইক চলাচল কমলেও কার্যক্রম বেশি দূর এগোয়নি। ফলে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।
সচিব আজমল হোসেন বলেন, পৌরসভার লাইসেন্স পাওয়া ৩২ শ ইজিবাইক রয়েছে। যাদের শহরে চলাচলের অনুমতি আছে। কিন্তু শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। এতে শহরে যানজট বাড়ছে।
সচিব আজমল হোসেন আরও বলেন, ‘শহরের দড়াটানা, হাসপাতাল, চিত্রা, সিভিল কোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব মোড় ও শহরের প্রবেশদ্বারে এ অভিযান চলবে। ইতিমধ্যে আমরা পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালাবে।’
যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনি খান পলাশ বলেন, ‘ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকেরা যথেচ্ছ চলাচল করছে। তাঁরা মানুষের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। তাঁদের হেনস্তা করছেন। কিন্তু পৌরসভাকে কোনো রাজস্ব দিচ্ছে না। উপরন্তু যানজট সৃষ্টি করছেন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেগুলো অবৈধ রয়েছে সেগুলোকে বৈধতার আওতায় আনতে অভিযান চালানো হবে।’