হোম > ছাপা সংস্করণ

এক নৌকাডুবিতে এত মৃত্যু!

সম্পাদকীয়

২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পঞ্চগড় জেলার করতোয়া নদীতে এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে করতোয়া নদী পেরিয়ে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ, ২০-৩০ জনের ধারণক্ষমতার ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় শতাধিক যাত্রী ওঠায় নৌকাটি ডুবে যায়। ওই নৌকা ঘাট থেকে ছাড়ার সময় ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নৌকাটি তখনই দুলছিল। ঠাসাঠাসি করে যাত্রী ওঠায় নৌকার ভারসাম্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন মাঝি। ফলে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ-শিশুর সলিলসমাধি হয়।

দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আরও অর্ধশতাধিক যাত্রীর নিখোঁজ থাকার তথ্য জানা যায়। মঙ্গলবার এই সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত মোট ৫৮টি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। আরও অনেকে নিখোঁজ আছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের হাহাকারে নদীপাড় বিষণ্ন হয়ে আছে।

পঞ্চগড় জেলা শুধু নয়, আশপাশের জেলাগুলোতেও নৌকাডুবিতে একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুর কথা কোনো প্রবীণ মানুষও মনে করতে পারেন না। এতগুলো মানুষের এই মৃত্যুর জন্য কি কারও কোনো দায় নেই?

বদেশ্বরী মন্দির বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের একটি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পীঠস্থান। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওই মন্দিরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। মন্দিরটি করতোয়া নদীতীরে হওয়ায় আউলিয়া ঘাট দিয়ে পারাপার হতে হয়।

মহালয়ার দিন যে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হয়, সেটা সবারই জানা। কিন্তু আউলিয়া ঘাট ইজারা নিয়েছেন যিনি, তাঁরও এটা জানা। তারপরও কেন যাত্রী পারাপারের জন্য অতিরিক্ত নৌকার ব্যবস্থা করা হয়নি–এ জন্য ইজারাদারকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোতে আউলিয়া ঘাটে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মোতায়েন থাকত না। এবার আগাম সতর্কতা হিসেবে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

প্রশ্ন হলো, যখন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল না, তখন এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। এবার ব্যবস্থা নেওয়ার পর এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল। তাহলে যাঁরা দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁরা নিশ্চয়ই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিষেধ উপেক্ষা করে কীভাবে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মানুষ নৌকায় উঠতে পারল? যাত্রীদের অসচেতনতা আছে সন্দেহ নেই, কিন্তু পাড়ে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তারাও কি বুঝতে পারেননি, কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে চলেছে?

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আজকের পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ঘাট ইজারাদারের লোভের বলি হতে হলো এতগুলো মানুষকে। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল।

কিছু মানুষের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ইজারাদারের লোভ এবং যাত্রীদের সময় বাঁচানোর তাড়াহুড়োর সম্মিলিত পরিণতি এত বড় ট্র্যাজেডি।

এর পরও কি সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথে চলাচলে সংশ্লিষ্ট সবার  চৈতন্যোদয় হবে? 

রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে