কুমিল্লা জেলায় ১০ মাসে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক ও নৌপথে ৮১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ৩২৯ জন। দুর্ঘটনার মধ্যে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে ৪৭৯টি। আর সড়ক ও নৌপথসহ বিভিন্ন ধরনের ৩৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২১-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (বৃহত্তর কুমিল্লা) সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় দুর্ঘটনার এই হিসাব করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১১টি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের অপারেশনাল কার্যক্রম রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আরও ১টি থানা ও ৬টি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (বৃহত্তর কুমিল্লা) সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান আরও জানান, আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মতৎপরতায় ৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিঝুঁকিসহ যেকোনো দুর্যোগ কমাতে এ বছর জেলায় ৫৩৯টি শিল্পকারখানা ও বহুতল ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। অগ্নিসচেতনতায় ১১৬টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতানে মহড়া প্রদর্শন এবং ৪৩টি ভবনে সার্ভে করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১৭টি স্থানে গণসংযোগ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান এতে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর খান, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল, লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, নিজেদের জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এটি একটি সেবামূলক পেশা। নগরীতে বহুতল ভবন ঘিরে প্রশস্ত রাস্তা রাখতে হবে। যেন ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সহজে যাতায়াত করতে পারে।