হোম > ছাপা সংস্করণ

বেপরোয়া মাদক কারবারিরা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাদক কারবারিরা। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেও হামলা থেকে রেহাই পায় না কেউ। এমনকি সম্প্রতি খোদ থানা-পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ ডিসেম্বর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা। সে সময় তাঁদের ওপর হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে আব্দুল করিম ও রেজাউল করিম নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

এর রেশ না কাটতেই এবার শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ নেতা আসিফুল হক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ নেতা আসিফুল হক ঢাকার বেসরকারি ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী। এ ছাড়া তিনি স্থানীয় ‘নবজাগরণ’ সামাজিক সংগঠনের সভাপতি।

স্থানীয় কলেজপাড়া এলাকার তপু (৩২) নামের এক যুবকের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার তপুকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তপু শহরের সরকারি হাজি আসমত কলেজ লাগোয়া ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। এলাকায় সে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। আর আসিফুল হক উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সড়ক এলাকার আজিজুল হকের ছেলে। আগের তুলনায় কলেজপাড়া এলাকায় এখন মাদক সেবন ও বিক্রি—দুই-ই বেড়েছে। একাধিক চক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তপু একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন। প্রতিদিন তাঁর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে তরুণেরা ইয়াবা সেবন করেন। মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেড়ে গেছে।

আসিফুল হক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে এসবের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে তরুণেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে মাদক ব্যবসায়ী তপু ক্ষুব্ধ হন এবং আসিফকে এই বিষয়ে চুপ থাকার হুমকি দেন। কিন্তু আসিফ পিছু না হটে মাদকবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান করছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় আসিফকে স্টেডিয়াম এলাকায় পান তপু ও তাঁর লোকজন। তখন তাঁরা আসিফকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আসিফকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আসিফুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করাই আমার অপরাধ। মাদকের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, কয়েকটি আঘাতের মধ্যে পিঠে ও ডান হাতের আঘাতটি গুরুতর।

এদিকে মামলা হওয়ার পর তপু ও তাঁর সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তপুর এক সহযোগী বলেন, তপু মাদক সিন্ডিকেটের নেতা-এ তথ্য সঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিব হাসান বলেন, হামলার ঘটনায় আসিফের ফুপাতো ভাই আসাদ মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর চারজন হলেন তপুর সহযোগী নবী হোসেন, কালাম মিয়া, মো. হৃদয় ও মামুন মিয়া।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ