খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত এসেই আটকে আছে। এ দুর্নীতি তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত বিভাগীয় কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তবে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসে তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্ত পৌঁছালেও এ বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
খুলনা সিভিল সার্ভিস অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর জুলাই মাস থেকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামী, বুথে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শুরু হয়। নমুনা পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশ। প্রতিদিন রোগীর নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে অনেক কমসংখ্যক মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করতেন। একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে পারেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নমুনা পরীক্ষা বাবদ ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি মাত্র ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সন্দেহ হলে প্রকাশ কুমারের কাছে চিঠি দিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে লিখিত হিসাব চাওয়া হয়। তবে হিসাব না দিয়ে তিনি কালক্ষেপণ করতে থাকেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি কমিটির কাছে হিসাব না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ব্যাপারে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, তদন্ত কমিটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এ মাসের ১৮ অক্টোবর থেকে ১৫ দিনের সময় চেয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। অভিযুক্ত প্রকাশ কুমার ধরা পড়লেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।