ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের রায় দেখতে গত রোববার সব কাজ শেষ করে টিভির সামনে বসে ছিলেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল ওই দিন।
টিভিতে ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ আদালতে নিয়ে যাচ্ছে সেই দৃশ্য তিনি দেখেন। খবর শুরু হতেই চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল তাঁর। পাশে ছিল আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, কাকা আমিরুল ইসলাম, মামা আব্দুল কাদের।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফাইয়াজের মোবাইল ফোনে কল আসে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহর। ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তিনি জানান, ‘রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর।’ এ কথা শুনে রুমে থাকা আবরারের মার চোখ থেকে পানি ঝরতে থাকে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজের হতাশ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘বড় আশা করছিলাম আজ মামলার রায় হবে। খুনিদের উপযুক্ত শাস্তির কথা শুনব। কিন্তু রায় না হওয়ায় সাংঘাতিক কষ্ট পেলাম।’
তিনি বলেন, আশা করছি ৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’
আবরার ফাহাদের মা আরো বলেন, ‘আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, হয়তো সম্পূর্ণ রায় প্রস্তুত হয়নি। তাই তা ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে। আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’
আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, রায় ঘোষণা না হওয়ার কারণ জানি না। তবে রায় যখনই হোক আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে আশা রাখি।’