বোরকা পরিহিত নারী। কোলে আনুমানিক চার মাস বয়সী ছেলে শিশুসন্তান। গতকাল বুধবার সকালে হাঁটাহাঁটি করছিলেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শৌচাগারে যাবেন বলে হাসপাতালে আসা দেলোয়ারা নামের অপর নারীর কাছে রাখেন তিনি। তবে এর পর থেকেই লাপাত্তা ওই নারী।
শিশু রেখে উধাও হওয়া নারী কি ওই শিশুর মা? নাকি শিশুটির সঙ্গে তাঁর অন্য কোনো সম্পর্ক রয়েছে? কেন শিশুটিকে ফেলে গেলেন তিনি—এসব প্রশ্নের উত্তর পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দেলোয়ারা নামের ওই নারী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের স্ত্রী। দেলোয়ারা বলেন, ‘বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ে শরীফাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে আসি। এর কিছুক্ষণ পর মধ্যবয়সী এক নারী বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ফুটফুটে শিশুটি আমার কোলে রেখে যান। চলে যাওয়ার তিন ঘণ্টা চলে হলেও ওই নারী ফিরে আসেননি।’
দেলোয়ারা জানান, এরপর হাসপাতালের আশপাশের এলাকা বিভিন্ন রুমে খোঁজে না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তিনি। শিশুটি সাদা রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি ও সাদা রঙের প্যান্ট পরা আছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ সেবিকা নূরুনাহার বলেন, শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালের হেফাজতে রয়েছে। শিশুটি অনেক কান্নাকাটি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে বুকের দুধ না পেয়ে শিশুটি বেশি কান্নাকাটি করছে বলে তাঁর ধারণা।
শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ছেলেশিশুটিকে হাসপাতালের একটি বেডে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে একটি শিশুসন্তান ফেলে যাওয়ার খবর শুনেছি। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’