ভাষিক ভাববিনিময়ে আমরা কখনো কখনো চৌদ্দ শিকের প্রসঙ্গ টেনে আনি। ঠাট্টার ছলে অথবা তুমুল ঝগড়ায় হয়তো বলিও ‘তোমাকে চৌদ্দ শিকের ভাত খাওয়াব’। কিন্তু এই চৌদ্দ শিকের অর্থ কী? আবার কখনো মনে প্রশ্ন জাগে চৌদ্দ শিক কেন? বারো বা আঠারো শিক কেন নয়? এর পেছনের গল্পটি কী? আসুন, আজ ভেদ করি এই চৌদ্দ শিকের রহস্য।
‘শিক’ শব্দটি ফারসি। ফারসি ভাষায় শিক শব্দের অর্থ লৌহদণ্ড, গরাদ, জেলখানা, কারাগার, কারাদণ্ড প্রভৃতি। এটি বিশেষ্য পদ। বাংলা অভিধান অনুসারে এর অর্থ লোহা বা অন্য ধাতুর তৈরি শলাকা, গরাদ। চৌদ্দ শিক শব্দবন্ধে ‘শিক’ শব্দের অর্থ বন্দিশালা, কারাগার, জেলখানা, কারাদণ্ড প্রভৃতি। আর ‘চৌদ্দ শিক’ শব্দবন্ধের অর্থ হলো কারাগার বা চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড।
যদিও বাংলা ভাষায় ‘কারাদণ্ড’ বা ‘জেলখানা’ অর্থে শিক শব্দের আলাদা কোনো ব্যবহার নেই। তবে এ বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাটি হলো, অনেকে মনে করেন ‘চৌদ্দ শিক’ শব্দবন্ধের অর্থ হলো সংখ্যার বিচারে চৌদ্দ শিকের তৈরি বন্দিশালা বা জেলখানা। প্রকৃতপক্ষে এটি ভুল। মূলত চৌদ্দ শিক বলতে সংখ্যাগতভাবে চৌদ্দ শিকের তৈরি কারাগারকে বোঝায় না, বোঝায় চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ডকে।
এবার আসা যাক চৌদ্দ শিক কেন; বারো বা আঠারো শিক কেন নয়? এ বিষয়টির ব্যাখ্যা হলো ব্রিটিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে সর্বোচ্চ চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ডকে বোঝায়। সেটি বারো বা আঠারো বছর নয়। এই আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কেউ যদি চৌদ্দ বছর জেলখানায় সাজা ভোগ করেন, তবে তাঁর শাস্তির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয়; অর্থাৎ ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চৌদ্দ বছর কারাদণ্ড সম অর্থজ্ঞাপক। এ বিষয়টির সূত্র ধরেই বাংলা ভাষায় চৌদ্দ শিক কথাটির উদ্ভব হয়েছে।