সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল রোববার থেকে হিলি দিয়ে দেশে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দিনাজপুরের এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এখন আর চাল আমদানি হচ্ছে না। তবে কোনো ব্যবসায়ী ভারত থেকে চাল আমদানি করতে চাইলে আগের মতো ৬২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ নতুন করে কেউ চাল আমদানি করলে তিনি শুল্ক সুবিধা পাবেন না।
বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি পর্যায়ে শুল্ক সুবিধা দিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই অনুযায়ী, চাল আমদানি করতে ইচ্ছুক আমদানিকারকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। প্রথম পর্যায়ে বেশ কয়েকজন আমদানিকারককে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। শর্ত দেওয়া হয়, ১-২৫ আগস্টের মধ্যে চাল আমদানি কার্যক্রম শেষ করার। দ্বিতীয় পর্যায়ে গত সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকজন আমদানিকারককে শুল্ক সুবিধা দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে যেসব আমদানিকারক ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন, তাঁদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আমদানি কার্যক্রম শেষ করার। নির্ধারিত সময়ের পর কেউ ভারত থেকে চাল আমদানি করতে চাইলে তাঁদের ৬২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান কাটা, মাড়াই শুরু হওয়ায় দেশের কৃষকেরা যাতে ধান ও চালের ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে সরকারও ভারত থেকে নতুন করে চাল আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। ফলে আর বাড়ানো হয়নি আমদানির সময়সীমা।
হিলির চাল আমদানিকারক রাজিব কুমার ও মুশফিকুর রহমান জানান, ভারতীয় চালের চাহিদা এমনিতেই কম। এ ছাড়া ভারত থেকে যে পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে, তা-ও সব বিক্রি হয়নি। দেশে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হলে চালের দাম কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রতাপ মল্লিক জানান, বর্তমানে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর থেকে কোনো চালের গাড়ি দেশে প্রবেশ করেনি। বন্দরে কিছু চালের গাড়ি রয়েছে, ব্যবসায়ীরা সেগুলো খালাস করে নিয়ে যাচ্ছেন।