বান্দরবানের সুয়ালক খালের ওপর রাবার ড্যাম ও সেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসার পাশাপাশি দুই পাড়ের মানুষের সহজ যোগাযোগ সম্ভব হবে। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ হলেই এটি উদ্বোধন করা হবে। বিএডিসি বান্দরবান কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বান্দরবান সদরের সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় সুয়ালক খালের ওপর সাড়ে ৪ মিটার প্রস্থ ও ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চারে নির্মাণকাজ করছে মেসার্স এমকে অ্যান্ড এসই নামে সিলেট ওসমানীনগরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিএডিসি বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবু নাইম জানান, এ পর্যন্ত ড্যামটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের মধ্যে খালের দুই পাড়ে ব্লক বসানোর কাজ চলছে। এক মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হলে ড্যামটি উদ্বোধন করা হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে ড্যাম এলাকায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়।
প্রকৌশলী আবু নাইম বলেন, রাবার ড্যামটি চালু হলে বর্ষায় রাবার ড্যামের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি সেচ কাজের জন্য পানির সুবিধা পাবে। এ ছাড়া ড্যামের জন্য নির্মিত সেতু দিয়ে সুয়ালক খালের দুই পাড়ের লোকজন চলাচল করতে পারবেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের মাধ্যমে এলাকার জীবনমানে উন্নয়ন হবে। ড্যাব ও সেতু নির্মাণের ফলে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে দুই পাড়ে বসবাসকারীরা।
ওই এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম, আবদুর রশিদ, আবদুস সালাম, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন বলেন, তাঁদের এলাকা বান্দরবানের ‘সবজি ভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত। এখানে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি, ফসল ও ফল বান্দরবান শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। তবে ধান চাষের বিপুল জমি থাকলেও সেচের পানির অভাবে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি ছিল।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন, নুর আলম বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে সেচ সুবিধা না থাকায় সুলতানপুর ও পার্শ্ববর্তী পুরানগড় এলাকার কৃষকেরা সমস্যায় পড়ত। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে সুয়ালক খালের পানি বৃদ্ধি পেলে দুই পাড়ের মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
বিএডিসি সূত্র জানায়, সুয়ালক খালের দুই পাড়ে সিমেন্টের তৈরি ৫০ হাজার ব্লক দিয়ে বাঁধ করার কারণে দুই পাড়ের বসতি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ড্যামের জন্য সেতু নির্মাণের ফলে প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘোরা পথ মাত্র কয়েক মিনিটে পারাপারের সুযোগ পাবে।
সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা বলেন, এই ড্যামটি চালু হলে স্থানীয় কৃষকেরা এর সুফল পাবে। অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে করে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনমান বাড়বে।