হোম > ছাপা সংস্করণ

সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি

জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ

হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলা এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই জেলার ৭৫ শতাংশ মানুষই বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। সুনামগঞ্জের বোরো ধান দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখে। অথচ চলতি বছর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরোর বাম্পার ফলন হলেও সরকারিভাবে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, সরকার এই জেলা থেকে ২৫ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সরকারিভাবে ধান কেনা হয়েছে ১৭ হাজার ৪১ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। সরকার এবার ২৭ টাকা কেজিতে ১ হাজার ৮০ টাকা মন ধান ক্রয় করার জন্য মূল্য নির্ধারণ করেছিল। গত ১৬ আগস্ট ধান-চাল ক্রয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

চলতি বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান। এত বিপুল পরিমাণ ধান ধানের উৎপাদন হলেও সরকারিভাবে যা কেনা হয়, তা একেবারেই অপ্রতুল বলছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু সুফিয়ান জানান, সুনামগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু সে তুলনায় সরকারিভাবে যা ক্রয় করা হচ্ছে, তা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘আগামী বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে যদি আরও বেশি ধান ক্রয় করা হয়, তাহলে চাষিরাও সরকারিভাবে ধান দিতে আগ্রহী হবে।’

অন্যদিকে বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই অনেক কৃষকেরা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ফড়িয়াদের কাছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বোরো চাষাবাদের সময় সংসারের খরচ জোগাতে বেশির ভাগ কৃষক মাঠেই ধান বিক্রি করে দেন ফড়িয়াদের কাছে। প্রতিবছরই বোরো ধান সরকারিভাবে ক্রয় শুরু হয় এপ্রিল মাস থেকে। কিন্তু বাস্তবে কৃষকেরা আগেই ধান বিক্রি করতে চান।

সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সরকারিভাবে যতটা ধান কেনা হয়, তা যদি একটু আগে কেনা হতো তাহলে আমরা সরকারিভাবে বিক্রি করতে পারতাম। মূল্যটাও বেশি পেতাম।’

এ ছাড়া অনেক কৃষক উপজেলা সদর বা জেলা সদরের খাদ্য গুদামে গিয়ে ধান বিক্রি করতে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে কৃষকেরা বলছেন, উপজেলা সদরে ধান নিয়ে যাওয়া কষ্টের বিষয়। বাড়তি অর্থ ব্যয় হয়। বৈশাখের শুরুতেই সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান কিনতে হবে। গ্রামকেন্দ্রিক ধান কেনা না গেলেও ইউনিয়নভিত্তিক ধান কিনলে সময় ও অর্থ অপচয় কম হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খিরদরপুর গ্রামের আবু নোমান বলেন, ‘সরকার যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান কেনার ব্যবস্থা করত তাহলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হতো।’

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধান কেনার জন্য আমরা প্রত্যেক উপজেলায় মাইকিং করেছি, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। বাজারে ধান চালের দাম বাড়ায় কৃষকেরা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে আসেনি।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না। তাই কৃষকেরা ধান গুদামে নিয়ে আসতে চায় না। তাঁরা বাড়িতেই ভালো দাম পেয়ে ধান বিক্রি করে দেয়।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ