শওকত আলী পেশায় ভ্যানচালক। আর্থিক টানাপোড়েন নিয়েই প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম। গত ১ নভেম্বর শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা বিবেচনা করে পাঁচটি ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দুটি ওষুধ দিয়ে বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনতে বলে। দরিদ্র ভ্যানচালকের সব ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।
আজকের পত্রিকাকে শওকত বলেন, ‘হাসপাতালের কেউই আমাকে রোগীকল্যাণ সমিতি নিয়ে কিছু বলেননি। দোকান থেকেই ওষুধ কিনে নিতে বলেছেন। আমি এত টাকা পাব কই। আমার মতো গরিব তো তবে ওষুধ না খেয়েই মরতে হবে।’ কিন্তু জানলেও কী হবে। অন্য কয়েকজনের তো আরও বড় অভিযোগ, রোগী কল্যাণ সমিতিতে গেলেও নাকি তাঁদের কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না।
গতকাল বুধবার হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়েও এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ইয়াছিন নামের এক রোগী বলেন, ‘(বুধবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় সমাজসেবা অফিসে গেলে, সেখানকার অফিস সহায়ক আমাকে পরের দিন যেতে বলে। আমি তাঁদের অনেকবার বললাম, আমার আজই ওষুধটা দরকার। তখন অফিস সহায়ক আমাকে বলে, ওষুধ পাওয়া এত সহজ না।’
দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিটফোর্ড হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ে মাত্র একজন কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন। অথচ নিয়োগ দেওয়া আছে চারজন। এখানের দুজন সমাজসেবা অফিসার তাসলিমা বেগম ও ফেরদৌসী আক্তারের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
উপস্থিত অফিস সহায়ক মাহফুজ মিয়া বলেন, ‘ম্যাডাম (তাসলিমা) সকালে আসছিলেন, এখন চলে গেছেন। অফিস সহকারী মহিলাও অসুস্থতার জন্য আসতে পারেন নাই।’ মানুষ ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ বলেন, ‘এখানে ওষুধ পাওয়ার কিছু প্রক্রিয়া আছে।’ ইয়াছিন নামের এক লোক সব সুপারিশ নিয়ে আসা সত্ত্বেও কেন ফিরে গেছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের সই/অনুমতি ছাড়া ওষুধ দেওয়া যায় না।’ সমাজসেবা অফিসারের মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে মাহফুজ নিজেই তাসলিমাকে কল দেন। তাসলিমা ফোন রিসিভ করেও এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অসম্মতি জানান। সার্বিক বিষয়ে জানতে মিটফোর্ডের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘যদি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয় তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাকি বিষয়গুলোও দেখার কথা বলেন।