মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বোরো ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে সেচসংকট, তীব্র খরা, অনাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ জমিতে বোরো ধান পেকে গেছে। আগাম বোরো চাষিরা ইতিমধ্যে ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। যাঁরা একটু বিলম্ব করে চারা রোপণ করেছিলেন তাদের জমিতে শতভাগ ধান পেকে গেছে। আগামী এক সপ্তাহ কালবৈশাখী বা শিলাবৃষ্টি না হলে বোরো ফসল ভালো ভাবে ঘরে তোলা যাবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এ বছর বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে হাওর এলাকার ৯৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং হাওরের ওপর অংশে ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার, আলীনগর, শমশেরনগর, রহিমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়নে বোরো খেত ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিক নিয়ে কৃষকেরা তীব্র গরমে ধান কাটছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। উপজেলার পতনঊষারের কেওলার হাওর এলাকার ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ধান ঘরে তুলতে সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান কৃষকেরা।
উপজেলার কালি মন্দির এলাকার বোরো চাষি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ধান কাটা কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে। ধান একর প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মণ ফলন হয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে ভালো ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।